Chapter (অধ্যায়): বিবাহ ও পুনরাগমন পৃষ্ঠা ১০২Page: 102 of 234
ব্যাধির ন্যায় প্রতীয়মান আমার শারীরিক বিকারসমূহের যথার্থ কারণ প্রথম নির্দেশ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। কিন্তু কেহই তখন তাঁহার কথায় আস্থা প্রদান প্রদান করে নাই।” ঐরূপে মথুরবাবু প্রমুখ ঠাকুরের হিতৈষি বন্ধুবর্গ তাঁহার অসাধারণ ব্যাধির জন্য চিন্তান্বিত হইয়া নানারূপে চিকিৎসা করাইয়াছিলেন। রোগের কিন্তু ক্রমশঃ বৃদ্ধি ভিন্ন উপশম হয় নাই।
|
চন্দ্রাদেবীর হত্যাদান |
সংবাদ ক্রমে কামারপুকুরে পৌঁছিল। শ্রীমতী চন্দ্রাদেবী উপায়ান্তর না দেখিয়া পুত্রের কল্যাণ কামনায় ৺মহাদেবের নিকট হত্যা দিবার সঙ্কল্প স্থির করিলেন, এবং কামারপুকুরের ‘বুড়ো শিব’কে জাগ্রত দেবতা জানিয়া তাঁহারই মন্দির প্রান্তে প্রায়োপবেশন করিয়া পড়িয়া রহিলেন। ‘মুকুন্দপুরের শিবের নিকট হত্যা দিলে তাঁহার মনোভিলাষ পূর্ণ হিবে’-তিনি এখানে এইরূপ প্রত্যাদেশ লাভ করিলেন এবং ঐ স্থানে গমন পূর্বক পুনরায় প্রায়োপবেশনের অনুষ্ঠান করিলেন। মুকুন্দপুরের শিবের নিকট ইতঃপূর্বে কামনা পূরণের জন্য কেহ হত্যা দিত না। প্রত্যাদৃষ্টা বৃদ্ধা উহা জানিয়াও মনে কিছুমাত্র দ্বিধা করিলেন না। দুই তিন দিন পরেই তিনি স্বপ্নে দেখিলেন, জ্বলজ্জটাসুশোভিত বাঘাম্বরপরিহিত রজতদলিতকান্তি মহাদেব সন্মুখে আবির্ভূত হইয়া তাঁহাকে সান্ত্বনাদান পূর্বক বলিতেছেন- ‘ভয় নাই, তোমার পুত্র পাগল হয় নাই, ঐশ্বরিক আবেশে তাহার ঐরূপ অবস্থা হইয়াছে!’ ধর্মপরায়ণা বৃদ্ধা ঐরূপ দেবাদেশ লাভে আশ্বস্তা হইয়া ভক্তিপূত চিত্তে শ্রীশ্রীমহাদেবের পূজা দিয়া গৃহে ফিরিলেন এবং পুত্রের মানসিক বিকার শান্তির জন্য কুলদেবতা ৺রঘবীর ও ৺শীতলামাতার এক মনে সেবা করিতে লাগিলেন। শুনিয়াছি, মুকুন্দপুরের শিবের নিকট তদবধি অনেক নরনারী প্রতিবৎসর হত্যা দিয়া সফলকাম হইতেছে।
|
ঠাকুরের এইকালের অবস্থা |
ঠাকুর তাঁহার এই কালের দিব্যোন্মাদ অবস্থার কথা স্মরণ করিয়া আমাদিগকে কত সময় বলিয়াছেন –“আধ্যাত্মিক ভাবের প্রাবল্যে সাধারণ জীবের শরীর –মনে ঐরূপ হওয়া দূরে থাকুক উহার একচতুর্থাংশ বিকার উপস্থিত হইলে শরীর ত্যাগ হয়। দিবা-রাত্রির অধকাংশ ভাগ মার কোন না কোনরূপ দর্শনাদি পাইয়া ভুলিয়া থাকিতাম তাই রক্ষা, নতুবা (নিজ শরীর দেখাইয়া) এ খোলটা থাকা অসম্ভব হইত। এখন হইতে আরম্ভ হইয়া দীর্ঘ ছয় বৎসর কাল তিলমাত্র নিদ্রা হয় নাই। চক্ষু পলক শূন্য হইয়া গিয়াছিল, সময়ে সময়ে চেষ্টা করিয়াও পলক ফেলিতে পারিতাম না! কত কাল গত হইল তাঁহার জ্ঞান থাকিত না এবং শরীর বাঁচাইয়া চলিতে হইবে, একথা প্রায় ভুলিয়া গিয়াছিলাম। শরীরের দিকে যখন একটু আধটু দৃষ্টি পড়িত, তখন উহার অবস্থা দেখিয়া বিষম ভয় হইত; ভাবিতাম পাগল হইতে বসিয়াছি নাকি? দর্পণের সন্মুখে দাঁড়াইয়া চক্ষে অঙ্গুলি প্রদান পূর্বক দেখিতাম, চক্ষুর পলক উহাতেও পড়ে কিনা। তাহাতেও চক্ষু সমভাবে পলক শূন্য হইয়া থাকিত। ভয়ে কাঁদিয়া ফেলিতাম এবং মাকে বলিতাম- ‘মা, তোকে ডাকার ও তোর উপর একান্ত বিশ্বাসে নির্ভর করার কি এই ফল হলো? শরীরে বিষম ব্যাধি দিলি?’ আবার পরক্ষ্ণেই বলিতাম, ‘তা যা হবার হকগে, শরীর যায় যাক, তুই কিন্তু আমায়

