Chapter (অধ্যায়): অবতারজীবনে সাধকভাব পৃষ্ঠা ১৮Page: 18 of 234


দ্বিতীয় অধ্যায়

অবতারজীবনে সাধকভাব

ঠাকুরে দেব ও মানবভাবের মিলন

পুণ্য – দর্শন ঠাকুরের দিব্য সঙ্গ ভাবে কৃতার্থ হইয়া আমরা তাঁহার জীবন ও চরিত্রের যতই অনুধ্যান করিয়াছি, ততই তাঁহাতে দেব ও মানব, উভয় বিধ ভাবের বিচিত্র সন্মেলন দেখিয়া মোহিত হইয়াছি। মধুর সামঞ্জস্যে ঐরূপ বিপরীত ভাবসমষ্টির একত্র একাধারে বর্তমানতা যে সম্ভবপর, একথা তাঁহাকে না দেখিলে আমাদের কখনই ধারণা হইত না। ঐরূপ দেখিয়াছি বলইয়াই আমাইগের ধারণা তিনি দেবমানব – পূর্ণ দেবত্বের ভাব ও শক্তিসমূহ মানবীয় দেহও ভাবাবরণে প্রকাশিত হইলে যাহা হয়, তিনি তাহাই। ঐরূপ দেখিয়াছি বলিয়াই বুঝিয়াছি যে, ঐ উভয় ভাবের কোনটিই তিনি বৃথা ভান করেন নাই এবং মানবভাব তিনি লোক হিতায় যথার্থই স্বীকার করিয়া উহা হইতে দেবত্বে উঠিবার পথ আমাদিগকে দেখাইয়া গিয়াছেন। আবার, দেখিয়াছি বলিয়াই একথা বুঝিতে পারিয়াছি যে, পূর্ব পূর্ব যুগের সকল অবতার পুরুষের জীবনেই এই উভয় ভাবের ঐরূপ বিচিত্র প্রকাশ নিশ্চয় উপস্থিত হইয়াছিল।

সকল অবতার পুরুষেই ঐরূপ

শ্রদ্ধাসম্পন্ন হইয়া অবতার পুরুষ সকলের মধ্যে কাহারও জীবন কথা আলোচনা করিতে যাইলেই আমরা ঐরূপ দেখিতে পাইব।  দেখিত পাইব, তাঁহারা কখনো আমাদের ভাব – ভূমিতে থাকিয়া জগতস্থ যাবতীয় বস্তু ও ব্যক্তির সহিত আমাদিগের ন্যায় ব্যবহার করিতেছেন –আবার কখনো বা উচ্চ ভাব ভূমিতে বিচরণ পূর্বক আমাদিগের অজ্ঞাত অপরিচিত ভাব ও শক্তি সম্পন্ন এক নূতন রাজ্যের সংবাদ আমাদিগকে আনিয়া দিতছেন! – তাঁহাদের ইচ্ছা না থাকিলেও কে যেন সকল বিষয়ের যোগাযোগ করিয়া তাঁহাদিগকে ঐরূপ করাইতেছে। আশৈশবই ঐরূপ। তবে, শৈশবে সময়ে সময়ে ঐ শক্তির পরিচয় পাইলেও উহা যে তাঁহা দিগের নিজস্ব এবং অন্তরেই অবস্থিত, এ কথা তাঁহারা অনেক সময় বুঝিতে পারেন না; অথবা ইচ্ছা মাত্রই ঐ শক্তি প্রয়োগে উচ্চভাব – ভূমিতে আরোহণ পূর্বক দিব্যভাব সহায়ে জগদন্তর্গত সকল বস্তু ও ব্যক্তিকে দেখিতে এবং তাহাদিগের সহিত তদনুরূপ ব্যবহার করিতে পারেন না। কিন্তু ঐ শক্তির অস্তিত্ব বারংবার প্রত্যক্ষ করিতে করিতে উহার সহিত সম্যক রূপে পরিচিত হইবার প্রবল বাসনা তাঁহাদের মনমধ্যে জাগিয়া উঠে এবং ঐ বাসনাই তাঁহাদিগকে অলৌকিক অনুরাগ সম্পন্ন করিয়া সাধনে নিযুক্ত করে। 

অবতারপুরুষে স্বার্থসুখের বাসনা থাকে না

তাঁহাদিগের ঐরূপ বাসনায় স্বার্থপরতার নামগন্ধ থাকে না। ঐহিক বা পারলৌকিক কোনপ্রকার ভোগসুখ লাভের প্রেরণা তো দূরের কথা, পৃথিবীস্থ 



Foot Note: