Chapter (অধ্যায়): অবতরণিকা সাধকভাবালোচনার প্রয়োজন পৃষ্ঠা ২Page: 2 of 234


ভিতরে পরিণত বয়স্কের বুদ্ধি ও বহুদর্শিতার পরিচয় পাইবার কেবল মাত্র প্রত্যাশা রাখেন না, কিন্তু সর্বজ্ঞতা, সর্বশক্তিমত্তা এবং বিশ্বজনীন উদারতা ও প্রেমের সম্পূর্ণ  প্রকৃতি দেখিবার জন্য উদ্‌গ্রীব হইয়া উঠেন। অতএব নিজ ঐশ্বরিক স্বরূপে সর্বসাধারণকে ধরা না দিবার জন্যই অবতার পুরুষেরা সাধন ভজনাদি মানসিক চেষ্টা এবং আহার, নিদ্রা, ক্লান্তি, ব্যাধি, দেহত্যাগ প্রভৃতি শারীরিক অবস্থানিচয়ের মিথ্যা ভান করিয়া থাকেন, এইরূপ সিদ্ধান্ত করা তাঁহাদিগের পক্ষে বিচিত্র নহে। আমাদের কালেই আমরা স্বচক্ষে দেখিয়াছি, কত বিশিষ্ট ভক্ত ঠাকুরের শারীরিক ব্যাধি সম্বন্ধে মিথ্যা ভান বলিয়া ধারণা করিয়াছিলেন।

ঐরূপ ভাবিলে ভক্তের ভক্তির হানি হয়, একথা যুক্তি যুক্ত নহে

নিজ দুর্বলতার জন্যই ভক্ত ঐরূপ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। বিপরীত সিদ্ধান্ত করিলে তাঁহার ভক্তির হানি হয় বলিয়াই বোধহয় তিনি নরসুলভ চেষ্টা ও উদ্দেশ্যাদি অবতার পুরুষে আরোপ করিতে চাহেন না। অতএব, তাঁহাদিগের বিরুদ্ধে বলিবার কিছু নাই। তবে এ কথা ঠিক যে, ভক্তির অপরিণত অবস্থাতেই ভক্তে ঐরূপ দুর্বলতা পরিলক্ষতি হয়। ভক্তির প্রথম অবস্থাতেই ভক্ত ভগবানকে ঐশ্বর্যবিরহিত করিয়া চিন্তা করিতে পারেন না। ভক্তি পরিপক্ক হইলে, ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ কালে গভীর ভাব ধারণ করিলে, ঐরূপ ঐশ্বর্য-চিন্তা ভক্তিপথের অন্তরায় বলিয়া বোধ হইতে থাকে, এবং ভক্ত তখন উহা যত্নে দূরে পরিহার করেন। সমগ্র ভক্তিশাস্ত্র ঐ কথা বারংবার বলিয়াছেন। দেখা যায়, শ্রীকৃষ্ণ মাতা যশোদা গোপালের দিব্য বিভূতি-নিচয়ের নিত্য পরিচয় পাইয়াও তাঁহাকে নিজ বালক বোধেই লালন-তাড়নাদি করিতেন। গোপীগণ  শ্রীকৃষ্ণকে জগৎকারণ ঈশ্বর বলিয়া জানিয়াও তাঁহাতে কান্তভাব ভিন্ন অন্যভাবের আরোপ করিতে পারিতেছেন না। এইরূপ অন্যত্র দ্রষ্টব্য। 

ঠাকুরের উপদেশ ঐশ্বর্য – উপলব্ধিতে ‘তুমি-আমি’-ভাবে ভালবাসা থাকে না; কাহারও ভাব নষ্ট করিবে না

ভগবানের শক্তিবিশেষের সাক্ষাৎ পরিচারক কোনরূপ দর্শনাদিলাভের জন্য আগ্রহাতিশয় জানাইলে ঠাকুর সেজন্য তাঁহার ভক্তদিগকে অনেক সময় বলিতেন, “ওগো, ঐরূপ দর্শন করতে চাওয়াটা ভাল নয়; ঐশ্বর্য দেখলে ভয় আসবে; খাওয়ানো, পরানো, ভালবাসায় (ঈশ্বরের সহিত) ‘তুমি আমি,-ভাব, এটা আর থাকবেনা।” কত সময়ই না আমরা তখন ক্ষুণ্ণমনে ভাবিয়াছি, ঠাকুর কৃপা করিয়া ঐরূপ দর্শনাদিলাভ করাইয়া দিবেন না বলিয়াই আমাদিগকে ঐরূপ বলিয়া ক্ষান্ত করাইতেছেন। সাহসে নির্ভর করিয়া কোনও ভক্ত যদি সে সময় প্রাণের বিশ্বাসের সহিত বলিত, “আপনার কৃপাতে অসম্ভব সম্ভব হইতে পারে, কৃপা করিয়া আমাকে ঐরূপ দর্শনাদি করাইয়া দিন,” ঠাকুর তাহাতে মধুর নম্রভাবে বলিতেন, “আমি কি কিছু করিয়াদিতে পারি রে – মায়ের যা ইচ্ছা তাই হয়।” ঐরূপ বলিলেও যদি সে ক্ষান্ত না হইয়া বলিত, “আপনার ইচ্ছা হইলেই মায়ের ইচ্ছা হইবে”, ঠাকুর তাহাতে অনেক সময় তাহাকে বুঝাইয়া বলিতেন, আমি তো মনে করি রে, তোদের সকলের সব রকম অবস্থা, সব রকম দর্শন হোক, কিন্তু তা



Foot Note: