Chapter (অধ্যায়): অবতারজীবনে সাধকভাব পৃষ্ঠা ২১Page: 21 of 234


আমাদিগকে সর্বদা সতর্ক করিতেন। নিজ জীবনের ঘটনাবলী* ও চিন্তা পর্যন্ত সময়ে সময়ে দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করিয়া তিনি ঐ বিষয়ে আমাদিগকে হৃদয়ঙ্গম করাইয়া দিতেন। পুরুষভক্ত দিগের ন্যায় স্ত্রী ভক্তদিগকেও তিনি ঐ কথা বারংবার বলিয়া তাঁহাদিগের অন্তরে ঈশ্বরানুরাগ উদ্দীপিত করিতেন। তাঁহার একদিনের ঐরূপ ব্যবহার এখানে বলিলে পাঠক একথা বলিতে পারিবেন।

স্ত্রী বা পুরুষ ঠাকুরের নিকট যে-কেহই যাইতেন, সকলেই তাঁহার অমায়িকতা, সদ্ব্যবহার ও কামগন্ধ রহিত অদ্ভুত ভালবাসার আর্কষণ প্রাণে প্রাণে অনুভব করিতেন এবং সুবিধা পাইলেই পুনরায় তাঁহার পুণ্যদর্শন - লাভের জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিতেন। ঐরূপে তাঁহারা যে নিজেই তাঁহার নিকট পুনঃপুনঃ গমনাগমন করিয়া ক্ষান্ত থাকিতেন তাহা নহে, নিজের পরিচিত সকলকে ঠাকুরের নিকট লইয়া যাইয়া তাহারও যাহাতে তাঁহার দর্শনে বিমলানন্দ উপভোগ করিতে পারে, তজ্জন্য বিশেষভাবে চেষ্টা করিতেন। আমাদিগের পরিচিতা জনৈকা ঐরূপে একদিন তাঁহার বৈমাত্রেয়ী ভগিনী ও তাঁহার স্বামীর সহোদরাকে সঙ্গে লইয়া অপরাহ্ণে দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের নিকট উপস্থিত হইলেন। প্রণাম করিয়া উপবেশন করিলে ঠাকুর তাঁহাদের পরিচয় ও কুশল – প্রশ্নাদি করিয়া ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগবান হওয়াই মানব জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত, এই বিষয়ে কথা পাড়িয়া বলিতে আরম্ভ করিলেন –

ঐ বিষয়ে স্ত্রীভক্তদিগকে উপদেশ

ভগবানের শরণাপন্ন কি সহজে হওয়া যায় গা? মহামায়ার এমনি কাণ্ড – হতে কি দেয়? যার তিনকুলে কেউ নেই, তাকে দিয়ে একটা বিড়াল পুষিয়ে সংসার করাবে! – সেও বিড়ালের মাছ দুধ ঘুরে ঘুরে যোগাড় করবে, আর বলবে, ‘মাছ দুধ না হলে বিড়ালটা খায় না, করি?’

“হয়তো, বড় বনেদি ঘর। পতি-পুত্তুর সব মরে গেল –কেউ নেই-রইল কেবল গোটাকতক রাঁড়ি! – তাদের মরণ নেই! বাড়ির এখানটা পড়ে গেছে, ওখানটা ধসে গেছে, ছাদের উপর অশ্বত্থ গাছ জম্নেছে – তার সঙ্গে দু-চারগাছা ডেঙ্গো ডাঁটাও জন্মেছে, রাঁড়িরা তাই তুলে চচ্চড়ি রাঁধছে ও সংসার করছে! কেন? ভগবানকে ডাকুক না কেন? তাঁর শরণাপন্ন হোক না কেন – তার তো সময় হয়েছে। তা হবে না!’’

“হয়তো বা কারুর বিয়ের পরে স্বামী মরে গেল – কড়ে রাঁড়ি। ভগবানকে ডাকুক না কেন? তা নয় –ভাইয়ের ঘরে গিন্নি হল! মাথায় কাগা খোঁপা, আঁচলে চাবির থেলো বেঁধে হাত নেড়ে গিন্নিপনা কচ্চেন – সর্বনাশীকে দেখলে পাড়া সুদ্ধু লোক ডরায়! আর বলে বেড়াচ্চেন – ‘আমি না হলে দাদার খাওয়াই হয় না!’ – মর মাগি, তোর কি হলো তা দ্যাখ – তা নয়!’’

এক রহস্যের কথা – আমাদের পরিচিতা রমণীর ভগিনীর ঠাকুরঝি – যিনি অদ্য প্রথমবার ঠাকুরের দর্শন লাভ করলেন, ভ্রাতার ঘরে গৃহিনী-ভগিনীদিগের শ্রেণীভুক্তা 



Foot Note:

  * গুরুভাব –পূর্বার্ধ, ১ম অধ্যায়, এবং ২য় অধ্যায়, দেখ।