Chapter (অধ্যায়): পূজকের পদগ্রহণ পৃষ্ঠা ৫৩Page: 53 of 234
কখনো ঐরূপ করিতেন। ইচ্ছা হইবামাত্র তিনি গঙ্গাবক্ষ হইতে মৃত্তিকা আহরণ করিয়া বৃষ, ডমরু ও ত্রিশুল সহিত একটি শিব মূর্তি স্বহস্তে গঠন করিয়া উহার পূজা করিতে লাগিতেন। মথুরবাবু ঐ সময় ইতস্ততঃ বেড়াইতে বেড়াইতে ঐ স্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং তিনি তন্ময় হইয়া কি পূজা করিতেছেন জানিতে উৎসুক হইয়া নিকটে আসিয়া ঐ মূর্তিটি দেখিতে পাইলেন। বৃহৎ না হইলেও মূর্তিটি সুন্দর হইয়াছিল। মথুর উহা দেখিয়া বিস্মিত হইলেন, বাজারে ঐরূপ দেবভাবাঙ্কিত মূর্তি যে পাওয়া যায় না, ইহা তিনি দেখিয়াই বুঝিয়াছিলেন। কৌতূহল পরবশ হইয়া তিনি হৃদয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “এ মূর্তি কোথায় পাইলে, কে গড়িয়াছে?” হৃদয়ের উত্তরে দেবদেবীর মূর্তি গড়িতে এবং ভগ্ন মূর্তি সুন্দর ভাবে জুড়িতে জানেন – একথা জানিতে পারিয়া তিনি বিস্মিত হইলেন এবং পূজান্তে মূর্তিটি তাঁহাকে দিবার জন্য অনুরোধ করিলেন। হৃদয়ও ঐ কথা স্বিকৃত হইয়া পূজাষেশে ঠাকুরকে বলিয়া মূর্তিটি লইয়া তাঁহাকে দিয়া আসিলেন। মূর্তিটি হস্তে পাইয়া মথুর এখন উহা তন্ন তন্ন করিয়া নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন এবং স্বয়ং মুগ্ধ হইয়া রানীকে উহা দেখাইতে পাঠাইলেন। রানীও উহা দেখিয়া নির্মাতার বিশেষ প্রশংসা করিলেন এবং ঠাকুর উহা গড়িয়াছেন জানিয়া মথুরের ন্যায় বিস্ময় প্রকাশ করিলেন।* ঠাকুরকে দেবালয়ের কার্যে নিযুক্ত করিতে মথুরের ইতঃপূর্বেই ইচ্ছা হইয়াছিল, এখন তাঁহার এই নূতন গুণপনার পরিচয় পাইয়া ঐ ইচ্ছা অধিকতর বলবতী হইল। তাঁহার ঐরূপ অভিপ্রায়ের কথা ঠাকুর ইতঃপূর্বে অগ্রজের নিকট শুনিয়াছিলেন; কিন্তু ভগবান ভিন্ন অপর কাহারও চাকরি করিব না – এইরূপ একটা ভাব বাল্যকাল হইতে তাঁহার মনে দৃঢ়নিবদ্ধ থাকায় তিনি ঐ কথায় কর্ণপাত করেন নাই।
|
চাকরি করা সম্বন্ধে ঠাকুর |
চাকরি করা সম্বন্ধে ঠাকুরের ঐরূপ ভাব প্রকাশ করিতে আমরা অনেক সময় শুনিয়াছি। বিশেষ অভাবে না পড়িয়া কেহ স্বেচ্ছায় চাকরী স্বীকার করিলে ঠাকুর ঐ ব্যক্তির সম্বন্ধে উচ্চ ধারণা করিতেন না। তাঁহার বালক ভক্ত দিগের মধ্যে একজন † একসময়ে চাকরী স্বীকার করিয়াছে জানিয়া আমরা তাঁহাকে বিশেষ ব্যথিত হইয়া বলিতে শুনিয়াছ, “সে মরিয়াছে শুনিলে আমার যত না কষ্ট হইত, সে চাকরি করিতেছে শুনিয়া ততোধিক কষ্ট হইতেছে।” পরে কিছুকাল অতীত হইলে ঐ ব্যক্তির সহিত পুনরায় সাক্ষাৎ হইয়া যখন জানিলেন, সে তাহার অসহায়া বৃদ্ধা মাতার ভরণ পোষণ –নির্বাহের জন্য চাকরি স্বীকার করিয়াছে, তখন তিনি সস্নেহে তাহার গাত্রে ও মস্তকে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিয়াছিলেন, “তাতে দোষ নেই, ঐজন্য
*কেহ কেহ বলেন, এই ঘটনা ঠাকুরের পূজাকালে হইয়াছিল এবং মথুর উহা রানী রাসমণিকে দেখাইয়া বলিয়াছিলেন – “যেরূপ উপযুক্ত পূজক পাইয়াছি, তাহাতে ৺দেবী শীঘ্রই জাগ্রত হইয়া উঠিবেন।”
† স্বামী নিরঞ্জনানন্দ

