Chapter (অধ্যায়): কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পৃষ্ঠা ১০৪৪Page: 1044 of 1170


অক্টোবর, ১৮৮৪; ১৫ই কার্তিক, বৃসস্পতিবার, উত্থান একাদশীর দিন) তখন এই দুটি মেয়ে ঠাকুরকে গান শুনাইয়াছিল। ঠাকুর গান শুনিয়া অতিশয় সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন। যখন ঠাকুরের কাছে কাশীপুর বাগানে আজ তাহারা উপরে গান গাহিতেছিল, ভক্তেরা নিচে হইতে শুনিয়াছিলেন। তাঁহারা আবার তাহাদের নিচে ডাকাইয়া গান শুনিলেন।

        শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) - তোমার মেয়েদের আর গান শিখিও না। আপনা-আপনি গায় সে এক। যার তার কাছে গাইলে লজ্জা ভেঙে যাবে, লজ্জা মেয়েদের বড় দরকার।

[ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের আত্মপূজা - ভক্তদের প্রসাদ প্রদান]

        ঠাকুরের সম্মুখে পুষ্পপাত্রে ফুল-চন্দন আনিয়া দেওয়া হইয়াছে। ঠাকুর শয্যায় বসিয়া আছেন। ফুল-চন্দন দিয়া আপনাকেই পূজা করিতেছেন। সচন্দন পুষ্প কখনও মস্তকে, কখনও কণ্ঠে, কখনও হৃদয়ে, কখনও নাভিদেশে, ধারণ করিতেছেন।

        মনোমোহন কোন্নগর হইতে আসিলেন ও ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া উপবিষ্ট হইলেন। ঠাকুর আপনাকে এখনও পূজা করিতেছেন। নিজের গলায় পুষ্পমালা দিলেন।

        কিয়ৎক্ষণ পরে যেন প্রসন্ন হইয়া মনোমোহনকে নির্মাল্য প্রদান করিলেন। মণিকে একটি চম্পক দিলেন।

সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

 বেলা নয়টা হইয়াছে, ঠাকুর মাস্টারের সহিত কথা কহিতেছেন, ঘরে শশীও আছেন।

        শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) - নরেন্দ্র আর শশী কি বলছিল - কি বিচার করছিল?

        মাস্টার (শশীর প্রতি) - কি কথা হচ্ছিল গা?

        শশী - নিরঞ্জন বুঝি বলেছে?

        শ্রীরামকৃষ্ণ - ‘ঈশ্বর নাস্তি অস্তি’, এই সব কি কথা হচ্ছিল?

        শশী (সহাস্যে) - নরেন্দ্রকে ডাকব?

        শ্রীরামকৃষ্ণ - ডাক।             [নরেন্দ্র আসিয়া উপবেশন করিলেন।]

        (মাস্টারের প্রতি) - “তুমি কিছু জিজ্ঞাসা কর। কি কথা হচ্ছিল, বল।”

        নরেন্দ্র - পেট গরম হয়েছে। ও আর কি বলবো।

        শ্রীরামকৃষ্ণ - সেরে যাবে।

        মাস্টার (সহাস্যে) - বুদ্ধ অবস্থা কিরকম?



Foot Note: