Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীযুক্ত বঙ্কিম পৃষ্ঠা ১১২৫Page: 1125 of 1170


যখন প্রাণ ওইরূপ আটু-পাটু করবে, তখন জানবে যে, তাঁর সাক্ষাৎকারের দেরি নাই।

        “তোমায় বলি, উপরে ভাসলে কি হবে? একটু ডুব দাও। গভীর জলের নিচে রত্ন রয়েছে, জলের উপর হাত-পা ছুঁড়লে কি হবে? ঠিক মাণিক ভারী হয়, জলেভাসে না; তলিয়ে গিয়ে জলের নিচে থাকে। ঠিক মাণিক লাভ করতে গেলে জলের ভিতর ডুব দিতে হয়।”

        বঙ্কিম - মহাশয়, কি করি, পেছনে শোলা বাঁধা আছে। (সকলের হাস্য) ডুবতে দেয় না।

        শ্রীরামকৃষ্ণ - তাঁকে স্মরণ করলে সব পাপ পেটে যায়। তাঁর নামেতে কালপাথ কাটে। ডুব দিতে হবে, তা না হলে রত্ন পাওয়া যাবে না। একটা গান শোন:

               ডুব্ ডুব্ ডুব্ রূপ-সাগরে আমার মন।

               তলাতল পাতাল খুঁজলে পাবে রে প্রেমরত্নধন ৷৷

               খুঁজ খুঁজ খুঁজলে পাবি হৃদয়মাঝে বৃন্দাবন।

               দীপ্ দীপ্ দীপ্ জ্ঞানের বাতি জ্বলবে হৃদে অনুক্ষণ ৷৷

               ড্যাং ড্যাং ড্যাং ড্যাঙ্গায় ডিঙে চালায় আবার সে কোন্ জন।

               কুবীর বলে শোন্ শোন্ শোন্ ভাব গুরুর শ্রীচরণ ৷৷

        ঠাকুর তাঁহার সেই দেবদুর্লভ মধুর কণ্ঠে এই গানটি গাইলেন। সভাসুদ্ধ লোক আকৃষ্ট হইয়া একমনে এই গান শুনিতে লাগিলেন। গান সমাপ্ত হইলে আবারকথা আরম্ভ হইল।

        শ্রীরামকৃষ্ণ (বঙ্কিমের প্রতি) - কেউ কেউ ডুব দিতে চায় না। তারা বলে, ঈশ্বর ঈশ্বর করে বাড়াবাড়ি করে শেষকালে কি পাগল হয়ে যাব? যারা ঈশ্বরের প্রেমেমত্ত, তাদের তারা বলে, বেহেড হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই সব লোক এটি বোঝে না যে সচ্চিদানন্দ অমৃতের সাগর।

        আমি নরেন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, মনে কর যে, এক খুলি রস আছে, আর তুই মাছি হয়েছিস; তুই কোন্খানে বসে রস খাবি? নরেন্দ্র বললে, আড়ায়(কিনারায়) বসে মুখ বাড়িয়ে খাব। আমি বললুম, কেন? মাঝখানে গিয়ে ডুবে খেলে কি দোষ? নরেন্দ্র বললে, তাহলে যে রসে জড়িয়া মরে যাব। তখন আমি বললুম,বাবা সচ্চিদানন্দ-রস তা নয়, এ-রস অমৃত রস, এতে ডুবলে মানুষ মরে না; অমর হয়।

        “তাই বলছি ডুব দাও। কিছু ভয় নেই, ডুবলে অমর হয়।”

        এইবার বঙ্কিম ঠাকুরকে প্রণাম করিলেন - বিদায় গ্রহণ করিবেন।

        বঙ্কিম - মহাশয়, যত আহাম্মক আমাকে ঠাওরেছেন তত নয়। একটি প্রার্থনা আছে - অনুগ্রহ করে কুটিরে একবার পায়ের ধুলা -

        শ্রীরামকৃষ্ণ - তা বেশ তো, ঈশ্বরের ইচ্ছা।



Foot Note: