Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পৃষ্ঠা ১৩২Page: 132 of 1170
আছে।সেই আমাকে নিয়ে এইরূপ কচ্ছে। মাঝে মাঝে দেবভাব প্রায় হত, - আমি পুজো না করলে শান্ত হতুম না।
“আমি যন্ত্র, তিনি যন্ত্রী। তিনি যেমন করান, তেমনি করি। যেমন বলান, তেমনি বলি।
“প্রসাদ বলে ভবসাগরে, বসে আছি ভাসিয়ে ভেলা।
জোয়ার এলে উজিয়ে যাব, ভাটিয়ে যাব ভাটার বেলা ৷৷
“ঝড়ের এঁটো পাতা কখনও উড়ে ভাল জায়গায় গিয়ে পড়ল, কখন বা ঝড়ে নর্দমায় গিয়ে পড়ল - ঝড় যেদিকে লয়ে যায়।
“তাঁতী বললে, রামের ইচ্ছায় ডাকাতি হল, রামের ইচ্ছায় আমাকে পুলিসে ধরল- আবার রামের ইচ্ছায় ছেড়ে দিলে।
“হনুমান বলেছিল, হে রাম, শরণাগত, শরণাগত;- এই আশীর্বাদ কর যেন তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি হয়। আর যেন তোমার ভুবনমোহিনী মায়ায় মুগ্ধ না হই।
“কোলা ব্যাঙ মুমূর্ষ অবস্থায় বললে, রাম, যখন সাপে ধরে তখন ‘রাম রক্ষা কর’ বলে চিৎকার করি। কিন্তু এখন রামের ধনুক বিঁধে মরে যাচ্ছি, তাই চুপ করে আছি।
“আগে প্রত্যক্ষ দর্শন হতো - এই চক্ষু দিয়ে - যেমন তোমায় দেখছি। এখন ভাবাস্থায় দর্শন হয়।
“ঈশ্বরলাভ হলে বালকের স্বভাব হয়। যে যাকে চিন্তা করে তার সত্তা পায়। ঈশ্বরের স্বভাব বালকের ন্যায়। বালক যেমন খেলাঘর করে, ভাঙে গড়ে- তিনিও সেইরূপ সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয় কচ্ছেন। বালক যেমন কোনও গুণের বশ নয় - তিনিও তেমনি সত্ত্ ব, রজঃ, তমঃ তিন গুণের অতীত।
“তাই পরমহংসেরা দশ-পাঁচজন বালক সঙ্গে রাখে, স্বভাব আরোপের জন্য।”
আগরপাড়া হইতে একটি বিশ-বাইশ বছরের ছোকরা আসিয়াছেন। ছেলেটি যখন আসেন ঠাকুরকে ইশারা করিয়া নির্জনে লইয়া যান ও চুপি চুপি মনের কথা কন। তিনি নূতন যাতায়াত করিতেছেন। আজ ছেলেটি কাছে আসিয়া মেঝেতে বসিয়াছেন।
[প্রকৃতিভাব ও কামজয়- সরলতা ও ঈশ্বরলাভ ]
শ্রীরামকৃষ্ণ (ছেলেটির প্রতি –( আরোপ করলে ভাব বদলে যায়। প্রকৃতিভাব আরোপ করলে ক্রমে কামাদি রিপু নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক মেয়েদের মতন ব্যবহার হয়ে দাঁড়ায়। যাত্রাতে যারা মেয়ে সাজে তাদের নাইবার সময় দেখেছি- মেয়েদের মতো দাঁত মাজে, কথা কয়।
“তুমি একদিন শনি-মঙ্গলবারে এস।”
(প্রাণকৃষ্ণের প্রতি(ব্রহ্ম ও শক্তি অভেদ। শক্তি না মানলে জগৎ মিথ্যা হয়ে যায়, আমি-তুমি, ঘরবাড়ি, পরিবার - সব মিথ্য া। ওই আদ্যাশক্তি আছেন বলে জগৎ

