Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পৃষ্ঠা ১৫৪Page: 154 of 1170
মাস্টার ও গিরীন্দ্র একটু হাসিয়া চুপ করিয়া রহিলেন।
বৃন্দে ঝি (রামলালের প্রতি) - ও রামলাল, এ-লোকটিকে এখন খাবার দেও, আমার খাবার তার পরে দিও।
শ্রীরামকৃষ্ণ - বৃন্দেকে খাবার এখনও দেয় নাই?
নবম পরিচ্ছেদ
১৮৮৩, ১১ই মার্চ
পঞ্চবটীমূলে কীর্তনানন্দে
অপরাহ্নে ভক্তেরা পঞ্চবটীমূলে কীর্তন করিতেছেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁহাদের সহিত যোগদান করিলেন। আজ ভক্তসঙ্গে মার নামকীর্তন করিতে করিতে আনন্দে ভাসিলেন:
শ্যামাপদ-আকাশেতে মন ঘুড়িখান উড়তেছিল ৷
কলুষের কুবাতাস পেয়ে গোপ্তা খেয়ে পড়ে গেল ৷৷
মায়াকান্নি হল ভারী, আর আমি উঠাতে নারি ৷
দারাসুত কলের দড়ি, ফাঁস লেগে সে ফেঁসে গেল ৷৷
জ্ঞান-মুণ্ড গেছে ছিঁড়ে, উঠিয়ে দিলে অমনি পড়ে ৷
মাথা নেই সে আর কি উড়ে, সঙ্গের ছজন জয়ী হল ৷৷
ভক্তি ডোরে ছিল বাঁধা, খেলতে এসে লাগল ধাঁধা ৷
নরেশচন্দ্রের হাসা-কাঁদা, না আসা এক ছিল ভাল ৷৷
আবার গান হইল। গানের সঙ্গে সঙ্গে খোল-করতাল বাজিতে লাগিল। ঠাকুর ভক্তসঙ্গে নাচিতেছেন:
মজলো আমার মনভ্রমরা শ্যামাপদ নীলকমলে ৷
(শ্যামাপদ নীলকমলে, কালীপদ নীলকমলে!)
যত বিষয়মধু তুচ্ছ হল কামাদি কুসুম সকলে ৷৷
চরণ কালো, ভ্রমর কালো, কালোয় কালো মিশে গেল ৷
পঞ্চতত্ত্ব, প্রধান মত্ত, রঙ্গ দেখে ভঙ্গ দিলে ৷৷
কমলাকান্তেরই মনে, আশাপূর্ণ এতদিনে ৷
তায় সুখ-দুঃখ সমান হলে আনন্দ সাগর উথলে ৷৷
কীর্তন চলিতেছে। ভক্তেরা গাহিতেছেন:
(১( - শ্যামা মা কি এক কল করেছে।
(কালী মা কি এক কল করেছে(
চোদ্দপোয়া কলের ভিতরি, কল ঘুরায় ধরে কলডুরি,
কল বলে আপনি ঘুরি, জানে না কে ঘুরাতেছে।
যে কলে জেনেছে তারে, কল হতে হবে না তারে,
কোন কলের ভক্তিডোরে আপনি শ্যামা বাঁধা আছে।

