Chapter (অধ্যায়): ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণঃ সুরেন্দ্রভবনে উৎসব মন্দিরে পৃষ্ঠা ১৭৮Page: 178 of 1170


তপন-তনয়,আমায় মন্দ কয়, কি দোষে তাতো জানি না।
ভবানী বলিয়ে, ভবে যাব চলে, মনে ছিল এই বাসনা,
অকূলপাথরে ডুবাবে আমারে, স্বপনেও তা জানি না ৷৷
অহরহর্নিশি শ্রীদুর্গানামে ভাসি, তবু দুখরাশি গেল না।
এবার যদি মরি, ও হরসুন্দরী, (তোর) দুর্গা নাম কেউ আর লবে না ৷৷

আবার গাহিতেছেন:

বল রে বল শ্রীদুর্গানাম। (ওরে আমার আমার মন রে) ৷৷
দুর্গা দুর্গা দুর্গা বলে পথ চলে যায়।

শূলহস্তে শূলপাণি রক্ষা করেন তায় ৷৷

তুমি দিবা, তুমি সন্ধ্যা, তুমি সে যামিনী।

কখন পুরূষ হও মা, কখন কামিনী ৷৷

তুমি বল ছাড় ছাড় আমি না ছাড়িব।

বাজন নূপুর হয়ে মা চরণে বাজিব ৷৷
(জয় দুর্গা শ্রীদুর্গা বলে)।

শঙ্করী হইয়ে মাগো গগনে উড়িবে।

মীন হয়ে রব জলে নখে তুলে লবে ৷৷

নখাঘাতে ব্রহ্মময়ী যখন যাবে মোর পরাণী,

কৃপা করে দিও রাঙা চরণ দুখানি।

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ আবার প্রতিমার সম্মুখে প্রণাম করিলেন। এইবার সিঁড়িতে নামিবার সময় ডাকিয়া বলিতেছেন, “ও রা-জু-আ”? (ও রাখাল, জুতো সব আছে, না হারিয়ে গেছে?)

ঠাকুর গাড়িতে উঠিলেন। সুরেন্দ্র প্রণাম করিলেন। অন্যান্য ভক্তেরাও প্রণাম করিলেন। রাস্তায় চাঁদের আলো এখনও আছে। ঠাকুরের গাড়ি দক্ষিণেশ্বর অভিমুখে যাত্রা করিল।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

১৮৮৩, ২২শে এপ্রিল

শ্রীরামকৃষ্ণ সিঁথির ব্রাহ্মসমাজে ব্রাহ্মভক্তসঙ্গে

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শ্রীযুক্ত বেণী পালের সিঁথির বাগানে শুভাগমন করিয়াছেন। আজ সিঁথির ব্রাহ্মসমাজের ষান্মাসিক মহোৎসব। চৈত্র পূর্ণিমা (১০ই বৈশাখ, রবিবার), ২২শে এপ্রিল, ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দ; বৈকাল বেলা। অনেক ব্রাহ্মভক্ত উপস্থিত; ভক্তেরা ঠাকুরকে ঘিরিয়া দক্ষিণের দালানে বসিলেন। সন্ধ্যার পর আদি সমাজের আচার্য শ্রীযুক্ত বেচারাম উপাসনা করিবেন।

ব্রাহ্মভক্তেরা ঠাকুরকে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করিতেছেন।

ব্রাহ্মভক্ত -- মহাশয়, উপায় কি?

শ্রীরামকৃষ্ণ -- উপায় অনুরাগ, অর্থাৎ তাঁকে ভালবাসা। আর প্রার্থনা।

 



Foot Note: