Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে পৃষ্ঠা ২৩৪Page: 234 of 1170


তয়ের করেছেন-যেমন আইন অনুসারে সব সৃষ্টি হচ্ছে।

শ্রীরামকৃষ্ণ-(সহাস্যে রামলালাদিকে)-ওরে, বলে কিরে!

ঠাকুরের হাস্য আর থামে না। অবশেষে বলিতেছেন, মাইরি বলছি, আমার যদি একটুও অভিমান হয়।
মণি-বিদ্যাতে একটা উপকার হয়, এইটি বোধ হয় যে, আমি কিছু জানি না, আর আমি কিছুই নই।

শ্রীরামকৃষ্ণ-ঠিক ঠিক। আমি কিছুই নই!-আমি কিছুই নই!-আচ্ছা, তোমার ইংরেজী জ্যোতিষে বিশ্বাস আছে?

মণি-ওদের নিয়ম অনুসারে নূতন আবিষ্ক্রিয়া (Discovery) হতে পারে, ইউরেনাস (Uranus) গ্রহের এলোমেলো চলন দেখে দূরবীন দিয়ে সন্ধান করে দেখলে যে, নূতন একটি গ্রহ (Neptune) জ্বলজ্বল করছে। আবার গ্রহণ গণনা হতে পারে।

শ্রীরামকৃষ্ণ – তা হয় বটে ।

গাড়ি চলিতেছে,-প্রায় অধরের বাড়ির নিকট আসিল। ঠাকুর মণিকে বলিতেছেন:

“সত্যেতে থাকবে, তাহলেই ইশ্বরলাভ হবে।”

মণি-আর-একটি কথা আপনি নবদ্বীপ গোস্বামীকে বলেছিলেন, “হে ঈশ্বর! আমি তোমায় চাই। দেখো, যেন তোমার ভুবনমোহিনী মায়ার ঐশ্বর্যে মুগ্ধ করো না!-আমি তোমায় চাই।”

শ্রীরামকৃষ্ণ – হাঁ, ওইটি আন্তরিক বলতে হবে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

১৮৮৩, ২১শে জুলাই

শ্রীযুক্ত অধর সেনের বাটীতে কীর্তনানন্দে

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অধরের বাড়ি আসিয়াছেন। রামলাল, মাস্টার, অধর আর অন্য অন্য ভক্ত তাঁহার কাছে অধরের বৈঠকখানায় বসিয়া আছেন। পাড়ার দু-চারিটি লোক ঠাকুরকে দেখিতে আসিয়াছেন । রাখালের পিতা কলিকাতায় আছেন-রাখাল সেইখানেই আছেন ।

শ্রীরামকৃষ্ণ (অধরের প্রতি)-কই রাখালকে খবর দাও নাই?

অধর- আজ্ঞে হাঁ, তাঁকে খবর দিয়াছি ।

রাখালের জন্য ঠাকুরকে ব্যস্ত দেখিয়া অধর দ্বিরুক্তি না করিয়া রাখালকে আনিতে একটি লোক সঙ্গে নিজের গাড়ি পাঠাইয়া দিলেন।

অধর ঠাকুরের কাছে বসিলেন। আজ ঠাকুরকে দর্শনজন্য অধর ব্যাকুল হইয়াছেন। ঠাকুরের এখানে আসিবার কথা পূর্বে কিছু ঠিক ছিল না। ঈশ্বরের ইচ্ছায় তিনি আসিয়া পড়িয়াছেন।



Foot Note: