Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে পৃষ্ঠা ২৭০ Page: 270 of 1170
আবরণ রয়েছে ততক্ষণ মা-মা বলে ডাকা ভাল। তুমি মা, আমি তোমার সন্তান; তুমি প্রভু, আমি তোমার দাস। সেব্য-সেবক ভাবই ভাল। এই দাসভাব থেকে আবার সব ভাব আসে-শান্ত, সখ্য প্রভৃতি। মনিব যদি দাসকে ভালবাসে, তাহলে আবার তাকে বলে, আয়, আমার কাছে বস; তুইও যা, আমিও তা। কিন্তু দাস যদি মনিবের কাছে সেধে বসতে যায়, মনিব রাগ করবে না?”
[আদ্যাশক্তি ও অবতারলীলা ও ঈশান-What is Maya?
বেদ, পুরাণ, তন্ত্রের সমন্বয় ]
ঈশান-হরি,হর এক ধাতু কেবল প্রত্যয়ের ভেদ। (সকলের হাস্য)
শ্রীরামকৃষ্ণ-হাঁ, এক বই দুই কিছু নাই। বেদেতে বলেছে, ওঁ সচ্চিদানন্দঃ ব্রহ্ম, পুরাণে বলেছে, ওঁ সচ্চিদানন্দঃ কৃষ্ণঃ, আবার তন্ত্রে বলেছে, ওঁ সচ্চিদানন্দঃ শিবঃ।
“সেই চিচ্ছক্তি, মহামায়ারূপে সব অজ্ঞান করে রেখেছে। অধ্যাত্মরামায়ণে আছে, রামকে দর্শন করে যত ঋষিরা কেবল এই কথাই বলছে, হে রাম, তোমার ভুবনমোহিনী মায়ায় মুগ্ধ করো না!”৩
ঈশান-এ মায়াটা কি?
শ্রীরামকৃষ্ণ-যা কিছু দেখছ, শুনছ, চিন্তা করছ-সবই মায়া। এককথায় বলতে গেলে, কামিনী-
“পান খাওয়া, মাছ খাওয়া, তামাক খাওয়া, তেল মাখা-এ-সব তাতে দোষ নাই। এ-সব শুধু ত্যাগ করলে কি হবে? কামিনী-কাঞ্চন ত্যাগই দরকার। সেই ত্যাগই ত্যাগ! গৃহীরা মাঝে মাঝে নির্জনে গিয়ে সাধন-ভজন করে, ভক্তিলাভ করে মনে ত্যাগ করবে। সন্ন্যাসীরা বাহিরে ত্যাগ, মনে ত্যাগ-দুই-ই করবে।”
কাঞ্চনই মায়ার আবরণ।
[Keshab Chandra Sen and Renunciation-নববিধান ও নিরাকারবাদ-Dogmatism ]
“কেশব সেনকে বলেছিলাম, যে-ঘরে জলের জালা আর আচার, তেঁতুল, সেই ভরে বিকারী রোগী থাকলে কেমন করে হয়? মাঝে মাঝে নির্জনে থাকতে হয়।”
একজন ভক্ত-মহাশয়, নববিধান কিরকম, যেন ডাল-খিচুড়ির মতো।
৩ অজ্ঞানেনাবৃতং জ্ঞানং তেন মুহ্যন্তি জন্তবঃ। [গীতা, ৫।১৫]
দৈবী হ্যেষা গুণময়ি মম মায়া দুরত্যয়া।
মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ৷৷ [গীতা, ৭।১৪]

