Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে পৃষ্ঠা ২৭৩Page: 273 of 1170
আমার ডোল খুব পরিষ্কার, কিন্তু তোমার ডোলের ভিতর মলমূত্র অনেকরকম ময়লা আছে। তাই বলছি, আমার ডোল থেকে খাও, এতে দোষ হবে না। তোমার ডোল অর্থাৎ তোমার দেহ, তোমার পেট!
“আর তাঁর নামে বিশ্বাস কর। তাহলে আর তীর্থাদিরও প্রয়োজন হবে না।”
এই বলিয়া ঠাকুর ভাবে বিভোর হইয়া গান গাইতেছেন:
[সিদ্ধাবস্থায় কর্মত্যাগ ]
গয়া গঙ্গা প্রভাসাদি কাশী কাঞ্চী কেবা চায়।
কালী কালী কালী বলে অজপা যদি ফুরায় ৷৷
ত্রিসন্ধ্যা যে বলে কালী, পূজা সন্ধ্যা সে কি চায়।
সন্ধ্যা তার সন্ধানে ফেরে, কভু সন্দি নাহি পায় ৷৷
দয়া ব্রত দান আদি, আর কিছু নাহি মনে লয়।
মদনেরি যাগযজ্ঞ-ব্রহ্মময়ীর রাঙা পায় ৷৷
কালীনামের এত গুণ কেবা জানতে পারে তায়।
দেবাদিদেব মহাদেব, যাঁর পঞ্চমুখে গুণ গায় ৷৷
ঈশান সব শুনিয়া চুপ করিয়া আছেন।
[ঈশানকে শিক্ষা; বালকের ন্যায় বিশ্বাস-জনকের ন্যায় আগে সাধন,
তবে সংসারে ঈশ্বরলাভ ]
শ্রীরামকৃষ্ণ (ঈশানের প্রতি)-আর কিছু খোঁচ মোচ (সন্দেহ) থাকে জিজ্ঞাসা কর!
ঈশান-আজ্ঞা, যা বলছিলেন, বিশ্বাস।
শ্রীরামকৃষ্ণ-ঠিক বিশ্বাসের দ্বারাই তাঁকে লাভ করা যায়। আর, সব বিশ্বাস করলে আরও শীঘ্র হয়। গাভী যদি বেছে বেছে খায়, তাহলে দুধ কম দেয়; সবরকম গাছ খেলে সে হুড়হুড় করে দুধ দেয়।
“রাজকৃষ্ণ বাঁড়ুজ্জের ছেলে গল্প করেছিল যে একজনের প্রতি আদেশ হল, দেখ্, এই ভেড়াতেই তোর ইষ্ট দেখিস। সে তাই বিশ্বাস করলে। সর্বভূতে যে তিনিই আছেন।
“গুরু ভক্তকে বলে দিছিলেন যে, ‘রামই ঘট্ ঘটমে লেটা।’ ভক্তের অমনি বিশ্বাস। যখন একটা কুকুর রুটি মুখে করে পালাচ্ছে, তখন ভক্ত ঘিয়ের ভাঁড় হাতে করে পিছু পিছু দৌড়াচ্ছে আর বলছে, ‘রাম একটু দাঁড়াও, রুটিতে ঘি মাখানো হয় নাই।’
আচ্ছা, কৃষ্ণকিশোরের কি বিশ্বাস! বলত ‘ওঁ কৃষ্ণ! ওঁ রাম! এই মন্ত্র উচ্চারণ করলে কোটি সন্ধ্যার ফল হয়!’
“আবার আমাকে কৃষ্ণকিশোর চুপিচুপি বলত, ‘বলো না কারুকে, আমার সন্ধ্যা-টন্ধ্যা ভাল লাগে না!’
“আমারও ওইরকম হয়! মা দেখিয়ে দেন যে, তিনিই সব হয়ে রয়েছেন। বাহ্যের

