Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে পৃষ্ঠা ২৭৪Page: 274 of 1170


পর ঝাউতলা থেকে আসছি, পঞ্চবটীর দিকে, দেখি, সঙ্গে একটি কুকুর আসছে, তখন পঞ্চবটীর কাছে একবার দাঁড়াই, মনে করি, মা যদি একে দিয়ে কিছু বলান!

“তাই তুমি যা বললে; বিশ্বাসে১ সব মিলে।”

[The difficult Problem of the Householder and the Lord's Grace]

ঈশান-আমরা কিন্তু গৃহে রয়েছি।


শ্রীরামকৃষ্ণ-তা হলেই বা, তাঁর কৃপা২  হলে অসম্ভব সম্ভব হয়। রামপ্রসাদ গান গেয়েছিল, “এই সংসার ধোঁকার টাটি। তাঁকে একজন উত্তর দিছিল আর-একটি গানের ছলে:

এই সংসার মজার কুটি, আমি খাই দাই আর মজা লুটি
জনক মহাতেজা তার বা কিসে ছিল ত্রুটি।
সে যে এদিক ওদিক দুদিক রেখে, খেয়েছিল দুধের বাটি।

“কিন্তু আগে নির্জনে গোপনে সাধন-ভজন করে, ঈশ্বলাভ করে সংসারে থাকলে, ‘জনক রাজা’ হওয়া যায়। তা না হলে কেমন করে হবে?

“দেখ না, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী সবই রয়েছে, কিন্তু শিব কখনও সমাধিস্থ, কখনও রাম রাম করে নৃত্য করছেন!”

ষড়্‌বিংশ পরিচ্ছেদ

১৮৮৩, ২৩শে সেপ্টম্বর

দক্ষিণেশ্বরে ভক্তসঙ্গে-২৩শে সেপ্টেম্বর, ১৮৮৩

শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। রাখাল, মাস্টার, রাম, হাজরা প্রভৃতি ভক্তগণ উপস্থিত আছেন। হাজরা মহাশয় বাহিরের বারান্দায় বসিয়া আছেন। আজ রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর ১৮৮৩, ভাদ্র কৃষ্ণা সপ্তমী।

নিত্যগোপাল, তারক প্রভৃতি ভক্তগণ রামের বাড়িতে থকেন। তিনি তাহাদের যত্ন করিয়া রাখিয়াছেন।

রাখাল মাঝে মাঝে শ্রীযুক্ত অধর সেনের বাড়িতে গিয়া থাকেন। নিত্যগোপাল সর্বদাই ভাবে বিভোর। তারকেরও অবস্থা অন্তর্মুখ; তিনি লোকর সঙ্গে আজকাল বেশি কথা কন না।

[শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবনা-নরেন্দ্রের জন্য ]

ঠাকুর এইবার নরেন্দ্রের কথা কহিতেছেন ।

শ্রীরামকৃষ্ণ (একজন ভক্তের প্রতি)-নরেন্দ্র তোমাকেও লাইক্‌ করে না। (মাস্টারের প্রতি) কই, অধরের বাড়ি নরেন্দ্র এল না কেন?

 



Foot Note:

১ সর্বধর্মান্‌ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।

    অহং ত্বাং সর্ব পাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ৷৷             [গীতা, ১৮।৬৬]

২  With man it is impossible, but nothing is impossible with the Lord-Christ