Chapter (অধ্যায়): গুরুরূপী শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তসঙ্গে-দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পৃষ্ঠা ৩৪৮ Page: 348 of 1170


গুরুরূপী শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তসঙ্গে

প্রথম পরিচ্ছেদ

১৮৮৩, ২৩শে ডিসেম্বর

সমাধিমন্দিরে — ঈশ্বরদর্শন ও ঠাকুরের পরমহংস অবস্থা

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁহার ঘরের দক্ষিণ-পূর্বের বারান্দায় রাখাল, লাটু, মণি, হরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। বেলা নয়টা হবে। রবিবার, অগ্রহায়ণ কৃষ্ণা নবমী, ২৩শে ডিসেম্বর, ১৮৮৩।

মণির গুরুগৃহে বাসের আজ দশম দিবস।

শ্রীযুত মনোমোহন কোন্নগর হইতে সকাল বেলা আসিয়াছেন। ঠাকুরকে দর্শন করিয়া ও কিয়ৎক্ষণ বিশ্রাম করিয়া আবার কলিকাতায় যাইবেন। হাজরাও ঠাকুরের কাছে বসিয়া আছেন। নীলকণ্ঠের দেশের একজন বৈষ্ণব ঠাকুরকে গান শুনাইতেছেন। বৈষ্ণব প্রথমে নীলকণ্ঠের গান গাইলেন:

শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর নব-নটবর তপতকাঞ্চন কায়।করে স্বরূপ বিভিন্ন, লুকাইয়ে চিহ্ন, অবতীর্ণ নদীয়ায়।কলিঘোর অন্ধকার বিনাশিতে, উন্নত উজ্জ্বল রস প্রকাশিতে,তিন বাঞ্ছা তিন বস্তু আস্বাদিতে, এসেছ তিনেরি দায়; —সে তিন পরশে, বিরস-হরষে, দরশে জগৎ মাতায় ৷৷নীলাব্জ হেমাব্জে করিয়ে আবৃত, হ্লাদিনীর পূরাও দেহভেদগত; —অধিরূঢ় মহাভাবে বিভাবিত, সাত্ত্বিকাদি মিলে যায়;সে ভাব আস্বাদনের জন্য, কান্দেন অরণ্যে,  প্রেমের বন্যে ভেসে যায় ৷৷নবীন সন্ন্যাসী, সুতীর্থ অন্বেষী, কভু নীলাচলে কভু যান কাশী;অযাচক দেন প্রেম রাশি রাশি, নাহি জাতিভেদ তায়;দ্বিজ নীলকণ্ঠে ভণে, এই বাঞ্ছা মনে, কবে বিকাব গৌরের পায়।

পরের গানটি মানসপূজা সম্বন্ধে।

শ্রীরামকৃষ্ণ (হাজরার প্রতি) — এ-গান (মানসপূজা) কি একরকম লাগল।

হাজরা — এ সাধকের নয়, — জ্ঞান দীপ, জ্ঞান প্রতিমা!

[পঞ্চবটীতে তোতাপুরীর ক্রন্দন — পদ্মলোচনের ক্রন্দন ]

শ্রীরামকৃষ্ণ — আমার কেমন কেমন বোধ হল!

“আগেকার সব গান ঠিক ঠিক। পঞ্চবটীতে, ন্যাংটার কাছে আমি গান গেয়েছিলাম, — ‘জীব সাজ সমরে, রণবেশে কাল প্রবেশে তোর ঘরে।’ আর-একটা গান — ‘দোষ কারু নয় গো মা, আমি স্বখাত সলিলে ডুবে মরি শ্যামা।’

“ন্যাংটা অত জ্ঞানী, — মানে না বুঝেই কাঁদতে লাগল।

“এ-সব গানে কেমন ঠিক ঠিক কথা —

“ভাব শ্রীকান্ত নরকান্তকারীরে নিতান্ত কৃতান্ত ভয়ান্ত হবি!



Foot Note: