Chapter (অধ্যায়): বলরাম-মন্দিরে রথের পুনর্যাত্রায় ভক্তসঙ্গে পৃষ্ঠা ৫০১Page: 501 of 1170


সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় তুমি তুমি বিশ্বমূল।

ত্রিলোকজননী তুমি ত্রিলোকতারিণী,

সকলের শক্তি তুমি (মা গো) তোমার শক্তি তুমি।

এই কয় চরণ গান শুনিয়া ঠাকুর ভাবাবিষ্ট হইয়াছেন, গান সমাপ্ত হইলে ঠাকুর নিজে গান ধরিলেন:

যশোদা নাচাতো শ্যামা বলে নীলমণি,

সেরূপ লুকালে কোথা করালবদনী।

বৈষ্ণবচরণ এইবার কীর্তন গাইতেছেন। সুবোল-মিলন। যখন গায়ক আখর দিতেছেন -‘রা বি ধা বেরোয় না রে!’ -ঠাকুর সমাধিস্থ হইলেন।

শশধর প্রেমাশ্রু বিসর্জন করিতেছেন।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

১৮৮৪, ৩রা জুলাই

পুনর্যাত্রা -রথের সম্মুখে ভক্তসঙ্গে ঠাকুরের নৃত্য ও সংকীর্তন

ঠাকুরের সমাধি ভঙ্গ হইল। গানও সমাপ্ত হইল। শশধর, প্রতাপ, রামদয়াল, রাম, মনোমোহন, ছোকরা ভক্তেরা প্রভৃতি অনেকেই বসিয়া আছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ মাস্টারকে বলিতেছেন, “তোমরা একটা কেউ খোঁচা দেও না” -অর্থাৎ শশধরকে কিছু জিজ্ঞাসা কর।

রামদয়াল (শশধরের প্রতি) -ব্রহ্মের রূপকল্পনা যে শাস্ত্রে আছে, সে কল্পনা কে করেন?

পণ্ডিত -ব্রহ্ম নিজে করেন, -মানুষের কল্পনা নয়।

ডাঃ প্রতাপ -কেন রূপ কল্পনা করেন?

শ্রীরামকৃষ্ণ -কেন? তিনি কারু সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করেন না। তাঁর খুশি, তিনি ইচ্ছাময়! কেন তিনি করেন, এ খপরে আমাদের কাজ কি? বাগানে আম খেতে এসেছ, আম খাও; কটা গাছ, ক-হাজার ডাল, কত লক্ষ পাতা, -এ-সব হিসাবে কাজ কি? বৃথা তর্ক-বিচার করলে বস্তুলাভ হয় না।

ডাঃ প্রতাপ -তাহলে আর বিচার করব না?

শ্রীরামকৃষ্ণ -বৃথা তর্ক-বিচার করবে না। তবে সদসৎ বিচার করবে, -কোন্‌টা নিত্য। কোন্‌টা অনিত্য। যেমন কাম-ক্রোধাদি বা শোকের সময়।

পণ্ডিত -ও আলাদা। ওকে বিবেকাত্মক বিচার বলে।

শ্রীরামকৃষ্ণ -হাঁ, সদসৎ বিচার।                                                                                             [সকলে চুপ করিয়া আছেন]

(পণ্ডিতের প্রতি) -“আগে বড় বড় লোক আসত।”

পণ্ডিত -কি, বড়মানুষ?
 



Foot Note: