Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে পৃষ্ঠা ৫৪০ Page: 540 of 1170
ভবনাথ (সহাস্যে) - কিরকমের লোক!
শ্রীরামকৃষ্ণ - তমোগুণী ভক্ত।
ভবনাথ - খুব শ্লোক বলতে পারে।
শ্রীরামকৃষ্ণ - আমি একজনকে বলেছিলাম -‘ও রজোগুণী সাধু - ওকে সিধে-টিধে দেওয়া কেন?’ আর-একজন সাধু আমায় শিক্ষা দিলে -‘অমন কথা বলো না! সাধু তিনপ্রকার - সত্ত্বগুণী, রজোগুণী, তমোগুণী।’ সেই দিন থেকে আমি সবরকম সাধুকে মানি।
নরেন্দ্র (সহাস্যে) - কি, হাতি নারায়ণ? সবই নারায়ণ।
শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) - তিনিই বিদ্যা-অবিদ্যারূপে লীলা কচ্ছেন। দুই-ই আমি প্রণাম করি। চন্ডীতে আছে, তিনিই লক্ষ্মী। আবার হতভাগার ঘরে অলক্ষ্মী। (ভবনাথের প্রতি) এটা কি বিষ্ণুপুরাণে আছে?
ভবনাথ (সহাস্যে) - আজ্ঞা, তা জানি না। কোন্নগরের ভক্তেরা আপনার সমাধি অবস্থা আসছে বুঝতে না পেরে উঠে যাচ্ছিল।
শ্রীরামকৃষ্ণ - কে আবার বলছিল - তোমরা বসো।
ভবনাথ (সহাস্য) - সে আমি!
শ্রীরামকৃষ্ণ - তুমি বাছা ঘটাতেও যেমন, আবার তাড়াতেও তেমনি।
গায়কের সঙ্গে নরেন্দ্রের তর্ক হইয়াছিল, -সেই কথা হইতেছে।
[Doctrine of Non-resistance and Sri Ramakrishna -
নরেন্দ্রের প্রতি উপদেশ -সত্ত্বের তমঃ - হরিনাম-মাহাত্ম্য]
মুখুজ্জে - নরেন্দ্রও ছাড়েন নাই।
শ্রীরামকৃষ্ণ - না, এরূপ রোখ চাই! একে বলে সত্ত্বের তমঃ। লোকে যা বলবে তাই কি শুনতে হবে? বেশ্যাকে কি বলবে, আচ্ছা যা হয় তুমি করো। তাহলে বেশ্যার কথা শুনতে হবে? মান করাতে একজন সখী বলেছিল, ‘শ্রীমতীর অহংকার হয়েছে।’ বৃন্দে বললে, এ ‘অহং’ কার? -এ তাঁরই অহং। কৃষ্ণের গরবে গরবিনী।
এইবার হরিনাম-মাহাত্ম্যের কথা হইতেছে।
ভবনাথ - হরিনামে আমার গা যেন খালি হয়।
শ্রীরামকৃষ্ণ - যিনি পাপ হরণ করেন তিনিই হরি। হরি ত্রিতাপ হরণ করেন।
“আর চৈতন্যদেব হরিনাম প্রচার করেছিলেন - অতএব ভাল।দেখো চৈতন্যদেব কত বড় পণ্ডিত - আর তিনি অবতার - তিনি যেকালে এই নাম প্রচার করেছিলেন এ অবশ্য ভাল। (সহাস্যে) চাষারা নিমন্ত্রণ খাচ্ছে - তাদের জিজ্ঞাসা করা হল, তোমরা আমড়ার অম্বল খাবে? তারা বললে, ঝদি বাবুরা খেয়ে থাকেন তাহলে আমাদের দেবেন। তাঁরা যেকালে খেয়ে গেছেন সেকালে ভালই হয়েছে।” (সকলের হাস্য)

