Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে পৃষ্ঠা ৫৫৯ Page: 559 of 1170


“দেহ থাকতে কর্মত্যাগ করবার জো নাই - পাঁক থাকতে ভুড়ভুড়ি হবেই।”১

[The three stages -শাস্ত্র, গুরুমুখ, সাধনা; Goal প্রত্যক্ষ]

(হাজরাকে) -“এক জ্ঞান থাকলেই আনেক জ্ঞানও আছে। শুধু শাস্ত্র পড়ে কি হবে?

“শাস্ত্রে বালিতে চিনিতে মিশেল আছে - চিনিটুকু লওয়া বড় কঠিন। তাই শাস্ত্রের মর্ম সাধুমুখে গুরুমুখে শুনে নিতে হয়। তখন আর গ্রন্থের কি দরকার?

“চিঠিতে খবর এসেছে, - ‘পাঁচ সের সন্দেশ পাঠাইবা - আর একখানা রেলপেড়ে কাপড় পাঠাইবা।’ এখন চিঠিখানি হারিয়ে গেল। তখন ব্যস্ত হয়ে চারদিকে খোঁজে। অনেক খোঁজবার পর চিঠিখানি পেলে, পড়ে দেখে, -লিখেছে -‘পাঁচ সের সন্দেশ আর একখানা রেলপেড়ে কাপড় পাঠাইবা।’ তখন চিঠিখানি আবার ফেলে দেয়। আর কি দরকার? এখন সন্দেশ আর কাপড়ের যোগাড় করলেই হল।

(মুখুজ্জে, বাবুরাম, মাস্টার প্রভৃতি ভক্তদের প্রতি) -“সব সন্ধান জেনে তারপর ডুব দাও। পুকুরের অমুক জায়গায় ঘটিটা পড়ে গেছে, জায়গাটি ঠিক করে দেখে নিয়ে সেইখানে ডুব দিতে হয়।

“শাস্ত্রের মর্ম গুরুমুখে শুনে নিয়ে, তারপর সাধন করতে হয়। এই সাধন ঠিক হলে তবে প্রত্যক্ষ দর্শন হয়।

“ডুব দিলে তবে তো ঠিক ঠিক সাধন হয়! বসে বসে শাস্ত্রের কথা নিয়ে কেবল বিচার করলে কি হবে? শ্যালারা পথে যাবারই কথা - ওই নিয়ে মরছে - মর শ্যালারা, ডুব দেয় না!

“যদি বল ডুব দিলেও হাঙ্গর-কুমিরের ভয় আছে - কাম-ক্রোধাদির ভয় আছে। - হলুদ মেখে ডুব

দাও - তারা কাছে আসতে পারবে না। বিবেক-বৈরাগ্য হলুদ।”

ষোড়শ পরিচ্ছেদ

১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

 পূর্বকথা - শ্রীরামকৃষ্ণের পুরাণ, তন্ত্র ও বেদ মতের সাধনা 

[পঞ্চবটী, বেলতলা ও চাঁদনির সাধন - তোতার কাছে সন্ন্যাস গ্রহণ - ১৮৬৬]

শ্রীরামকৃষ্ণ (ভক্তদের প্রতি) - তিনি আমায় নানারূপ সাধন করিয়েছেন। প্রথম, পুরাণ মতের - তারপর তন্ত্র মতের, আবার বেদ মতের। প্রথমে পঞ্চবটীতে সাধনা করতাম। তুলসী কানন হল - তার মধ্যে বসে ধ্যান করতাম। কখনও ব্যাকুল হয়ে

 

 

 

 

 

 



Foot Note:

১ ন হি দেহভৃতা শক্যং ত্যক্তুং কর্মাণ্যশেষতঃ।                                                                                                                                            [গীতা, ১৮।১১]

   যস্তু কর্মফলত্যাগী স ত্যাগীত্যভিধীয়তে ৷৷