Chapter (অধ্যায়): দক্ষিণেশ্বরে নবমীপূজা দিবসে ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ পৃষ্ঠা ৫৯১ Page: 591 of 1170


তুমি সন্ধ্যা, তুমি দিবা তুমি গো যামিনী।

কখন পুরুষ হও মা, কখন কামিনী ৷৷

রামরূপে ধর ধনু মা, কৃষ্ণরূপে বাঁশী।

ভুলালি শিবের মন মা হয়ে এলোকেশী।

দশ মহাবিদ্যা তুমি মা, দশ অবতার।

কোনরূপে এইবার আমারে কর মা পার ৷৷

যশোদা পূজিয়েছিল মা জবা বিল্বদলে ।

মনোবাঞ্ছা পূর্ণ কৈলি কৃষ্ণ দিয়ে কোলে ৷৷

যেখানে সেখানে থাকি মা, থাকি গো কাননে।

নিশিদিন মন থাকে যেন ও রাঙ্গাচরণে ৷৷

যেখানে সেখানে মরি মা, মরি গো বিপাকে।

অন্তকালে জিহ্বা যেন মা, শ্রীদুর্গা বলে ডাকে ৷৷

যদি বল যাও যাও মা, যাব কার কাছে।

সুধামাখা তারা নাম, মা আর কার আছে ৷৷

যদি বল ছাড় ছাড় মা, আমি না ছাড়িব।

বাজন নূপুর হয়ে মা, তোর চরণে বাজিব।

যখন বসিবে মাগো শিব সন্নিধানে। -

জয় শিব জয় শিব বলে বাজিব চরণে ৷৷

চরণে লিখিতে নাম আঁচড় যদি যায়।

ভূমিতে লিখিয়ে থুই নাম, পদ দে গো তায় ৷৷

শঙ্করী হইয়ে মাগো গগনে উড়িবে ।

মীন হয়ে রব জলে মা, নখে তুলে লবে ৷৷

নখাঘাতে ব্রহ্মময়ি যখন যাবে গো পরাণী।

কৃপা করে দিও মা গো রাঙ্গা চরণ দুখানি ৷৷

পার কর ও মা কালী, কালের কামিনী।

তরাবারে দুটু পদ করেছ তরণী ৷৷

তুমি স্বর্গ, তুমি মর্ত্য, তুমি গো পাতাল।

তোমা হতে হরি ব্রহ্মা দ্বাদশ গোপাল ৷৷

গোলকে সর্বমঙ্গলা, ব্রজে কাত্যায়নী।

কাশীতে মা অন্নপূর্ণা অনন্তরূপিণী ৷৷

দুর্গা দুর্গা দুর্গা বলে যেবা পথে চলে যায়।

শূলহস্তে শূলপাণি রক্ষা করেন তায় ৷৷

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

১৮৮৪, ২৯শে সেপ্টেম্বর

ভবনাথ নরেন্দ্র প্রভৃতি মধ্যে শ্রীরামকৃষ্ণের সমাধি ও নৃত্য

হাজরা উত্তর-পূর্ব বারান্দায় বসিয়া হরিণামের মালা হাতে করিয়াজপ করিতেছেন। ঠাকুর সম্মুখে আসিয়া বসিলেন ও হাজরার মালা হাতে লইলেন। মাস্টার ও ভবনাথ সঙ্গে। বেলা প্রায় দশটা হইবে।



Foot Note: