Chapter (অধ্যায়): ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে লাটু, মাস্টার, মণিলাল, মুখুজ্জে প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে ও কলুটোলায় কীর্তনানন্দে পৃষ্ঠা ৬০৭Page: 607 of 1170
“বিজয় কাল অধর সেনের বাড়িতে গিছল। তা যেন আপনার বাড়ি -সবাই যেন আপনার।
“বিষয়বুদ্ধি না গেলে উদার সরল হয় না।
এই বলিয়া ঠাকুর গান গাহিতেছেন -
“অমূল্যধন পাবি রে মন হলে খাঁটি!
“মাটি পাট করা না হলে হাঁড়ি তৈয়ার হয় না। ভিতরে বালিঢিল থাকলে হাঁড়ি ফেটে যায়। তাই কুমোর আগে মাটি পাট করে।
“আরশিতে ময়লা পড়ে থাকলে মুখ দেখা যায় না। চিত্তশুদ্ধি না হলে স্ব-স্বরূপদর্শন হয় না।
“দেখো না, যেখানে অবতার, সেখানেই সরল। নন্দঘোষ, দশরথ, বসুদেব -এঁরা সব সরল।
“বেদান্তে বলে শুদ্ধবুদ্ধি না হলে ঈশ্বরকে জানতে ইচ্ছা হয় না। শেষ জন্ম বা অনেক তপস্যা না থাকলে উদার সরল হয় না।”
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
১৮৮৪, ২রা অক্টোবর
শ্রীরামকৃষ্ণের বালকের অবস্থা।
ঠাকুরের পা একটু ফুলো ফুলো বোধ হওয়াতে তিনি বালকের ন্যায় চিন্তিত আছেন।
সিঁথির মহেন্দ্র কবিরাজ আসিয়া প্রণাম করিলেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ (প্রিয় মুখুজ্জে প্রভৃতি ভক্তদের প্রতি) -কাল নারাণকে বললাম, তোর পা টিপে দেখ দেখি, ডোব হয় কি না। সে টিপে দেখলে -ডোব হল; -তখন বাঁচলুম। (মুখুজ্জের প্রতি) -তুমি একবার তোমার পা টিপে দেখো তো; ডোব হয়েছে?
মুখুজ্জে -আজ্ঞা হাঁ।
শ্রীরামকৃষ্ণ -আঃ! বাঁচলুম।
মণি মল্লিক -কেন? আপনি স্রোতের জলে নাইবেন। সোরা ফোরা কেন খাওয়া।
শ্রীরামকৃষ্ণ -না গো, তোমাদের রক্তের জোর আছে, -তোমাদের আলাদা কথা!
“আমায় বালকের অবস্থায় রেখেছে।
“ঘাস বনে একদিন কি কামড়ালে। আমি শুনেছিলাম, সাপে যদি আবার কামড়ায়, তাহলে বিষ তুলে লয়। তাই গর্তে হাত দিয়ে রইলাম। একজন এসে বললে -ও কি কচ্ছেন? -সাপ যদি সেইখানটা আবার কামড়ায়,তাহলে হয়। অন্য জায়গায় কামড়ালে হয় না।

