Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে -বাবুরাম, মাস্টার, নীলকণ্ঠ, মনোমোহন প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে পৃষ্ঠা ৬৩২Page: 632 of 1170
আখর দিতেছেন -
‘রাধার প্রেমে মাতোয়ারা, তারা দুভাই এসেছে রে।’
উচ্চ সংকীর্তন শুনিয়া চতুর্দিকে লোক আসিয়া জমিয়াছে। দক্ষিণের, উত্তরের ও পশ্চিমের গোল বারান্দায়, সব লোক দাঁড়াইয়া। যাঁহারা নৌকা করিয়া যাইতেছেন, তাঁহারাও এই মধুর সংকীর্তনের শব্দ শুনিয়া আকৃষ্ট হইয়াছেন।
কীর্তন সমাপ্ত হইল। ঠাকুর জগন্মাতাকে প্রণাম করিতেছেন ও বলিতেছেন -ভাগবত-ভক্ত-ভগবান -জ্ঞানীদের নমস্কার, যোগীদের নমস্কার, ভক্তদের নমস্কার।
এইবার ঠাকুর নীলকণ্ঠাদি ভক্তসঙ্গে পশ্চিমের গোল বারান্দায় আসিয়া বসিয়াছেন। সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে। আজ কোজাগর পূর্ণিমার পরদিন। চতুর্দিকে চাঁদের আলো। ঠাকুর নীলকণ্ঠের সহিত আনন্দে কথা কহিতেছেন।
[ঠাকুর কে? ‘আমি’ খুঁজে পাই নাই -“ঘরে আনবো চণ্ডী”]
নীলকণ্ঠ -আপনিই সাক্ষাৎ গৌরাঙ্গ।
শ্রীরামকৃষ্ণ -ও গুনো কি! -আমি সকলের দাস।
“গঙ্গারই ঢেউ। ঢেউ-এর কখন গঙ্গা হয়?”
নীলকণ্ঠ -আপনি যা বলুন, আমরা আপনাকে তাই দেখছি!
শ্রীরামকৃষ্ণ (কিঞ্চিৎ ভাবাবিষ্ট হইয়া, করুণস্বরে) -বাপু, আমার ‘আমি’ খুঁজতেযাই, কিন্তু খুঁজে পাই না।
“হনুমান বলেছিলেন -হে রাম, কখন ভাবি তুমি পূর্ণ, আমি অংশ -তুমি প্রভু আমি দাস, -আবার যখন তত্ত্বজ্ঞান হয় -তখন দেখি, তুমিই আমি, আমিই তুমি!”
নীলকণ্ঠ -আর কি বলব আমাদের কৃপা করবেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) -তুমি কত লোককে পার করছ -তোমার গান শুনে কত লোকের উদ্দীপন হচ্ছে।
নীলকণ্ঠ -পার করছি বলছেন। কিন্তু আশীর্বাদ করুন, যেন নিজে ডুবি না!
শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) -যদি ডোবো তো ওই সুধাহ্রদে!
ঠাকুর নীলকণ্ঠকে পাইয়া আনন্দিত হইয়াছেন। তাঁহাকে আবার বলিতেছেন “তোমার এখানে আসা! -যাকে অনেক সাধ্য-সাধনা করে তবে পাওয়া যায়! তবে একটা গান শোন:
গিরি! গণেশ আমার শুভকারী। -
পূজে গণপতি, পেলাম হৈমবতী
যাও হে গিরিরাজ, আন গিয়ে গৌরী।।
বিল্ববৃক্ষমূলে পাতিয়ে বোধন,

