Chapter (অধ্যায়): ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সিঁথির ব্রাহ্মসমাজে ও বড়বাজারের মারোয়াড়ী ভক্তমন্দিরে গমন পৃষ্ঠা ৬৭২Page: 672 of 1170


উপস্থিত। ঠাকুর তেলধুতিকিনিতে আজ্ঞা করিয়াছিলেন, - সেইগুলি কিনিয়াছেন। কাগজে মোড়া; একহাতে আছে। মল্লিক স্ট্রীটে দুইজনেপৌঁছিয়া দেখেন, লোকে লোকারণ্য - গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি জমা হইয়া রহিয়াছে। ১২ নম্বরের নিকটবর্তী হইয়াদেখিলেন, ঠাকুর গাড়িতে বসিয়া, গাড়ি আসিতে পারিতেছে না। ভিতরে বাবুরাম, রাম চাটুজ্যে। গোপাল ওমাস্টারকে দেখিয়া ঠাকুর হাসিতেছেন।

        ঠাকুর গাড়ি থেকে নামিলেন। সঙ্গে বাবুরাম, আগে আগে মাস্টার পথ দেখাইয়া লইয়া যাইতেছেন।মারোয়াড়ীদের বাড়িতে পৌঁছিয়া দেখেন, নিচে কেবল কাপড়ের গাঁট উঠানে পড়িয়া আছে। মাঝে মাঝে গরুরগাড়িতে মাল বোঝাই হইতেছে। ঠাকুর ভক্তদের সঙ্গে উপর তলায় উঠিলেন। মারোয়াড়ীরাও আসিয়া তাঁহাকেএকটি তেতলার ঘরে বসাইল। সে ঘরে মা-কালীর পট রহিয়াছে - ঠাকুর দেখিয়া নমস্কার করিলেন, ঠাকুর আসনগ্রহণ করিলেন ও সহাস্যে ভক্তদের সঙ্গে কথা কহিতেছেন।

        একজন মারোয়াড়ী আসিয়া ঠাকুরের পদসেবা করিতে লাগিলেন। ঠাকুর বলিলেন, থাক্ থাক্। আবার কিভাবিয়া বলিলেন, আচ্ছা, একটু কর। প্রত্যেক কথাটি করুণামাখা।

        মাস্টারকে বলিলেন, স্কুলের কি -

        মাস্টার - আজ্ঞা, ছুটি।

        শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) - কাল আবার অধরের ওখানে চণ্ডীর গান।

        মারোয়াড়ী ভক্ত গৃহস্বামী, পণ্ডিতজীকে ঠাকুরের কাছে পাঠাইয়া দিলেন। পণ্ডিতজী আসিয়া ঠাকুরকে প্রণামকরিয়া আসন গ্রহণ করিলেন। পণ্ডিতজীর সহিত অনেক ঈশ্বরীয় কথা হইতেছে।

[শ্রীরামকৃষ্ণের কামনা - ভক্তিকামনা - ভাব, ভক্তি, প্রেম - প্রেমের মানে]

        অবতারবিষয়ক কথা হইতে লাগিল।

        শ্রীরামকৃষ্ণ - ভক্তের জন্য অবতার, জ্ঞানীর জন্য নয়।

        পণ্ডিতজী - পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।

                          ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।

        “অবতার, প্রথম, ভক্তের আনন্দের জন্য হন; আর দ্বিতীয়, দুষ্টের দমনের জন্য। জ্ঞানী কিন্তু কামনাশূন্য।”

        শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) - আমার কিন্তু সব কামনা যায় নাই। আমার ভক্তিকামনা আছে।

        এই সময়ে পণ্ডিতজীর পুত্র আসিয়া ঠাকুরের পাদবন্দনা করিয়া আসন গ্রহণ করিলেন।

        শ্রীরামকৃষ্ণ (পণ্ডিতজীর প্রতি) - আচ্ছা জী! ভাব কাকে বলে, আর ভক্তি কাকে বলে?

        পণ্ডিতজী - ঈশ্বরকে চিন্তা করে মনোবৃত্তি কোমল হয়ে যায়, তার নাম ভাব,



Foot Note: