Chapter (অধ্যায়): গিরিশ-মন্দিরে ও স্টার থিয়েটারে ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ পৃষ্ঠা ৭৪৩Page: 743 of 1170


কর্তব্য?”

        সকলে চুপ করিয়া আছেন। ঠাকুর কি বলিতেছেন যে ঈশ্বরলাভই জীবনের উদ্দেশ্য?

        শ্রীরামকৃষ্ণ (নারায়ণের প্রতি) - তুই পাস করবিনি? ওরে পাশমুক্ত শিব, পাশবদ্ধ জীব।

        ঠাকুর এখন ভাবাবস্থায় আছেন। কাছে গ্লাস করা জল ছিল, পান করিলেন। তিনি আপনা-আপনি বলিতেছেন,কই ভাবে তো জল খেয়ে ফেললুম!

[শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীযুক্ত অতুল - ব্যাকুলতা]

        এখনও সন্ধ্যা হয় নাই। ঠাকুর গিরিশের ভ্রাতা শ্রীযুক্ত অতুলের সহিত কথা কহিতেছেন। অতুল ভক্তসঙ্গেসম্মুখেই বসিয়া আছেন। একজন ব্রাহ্মণ প্রতিবেশীও বসিয়া আছেন। অতুল হাইকোর্ট-এর উকিল।

        শ্রীরামকৃষ্ণ (অতুলের প্রতি) - আপনাদের এই বলা, আপনারা দুই করবে, সংসারও করবে, ভক্তি যাতে হয়তাও করবে।

        ব্রাহ্মণ প্রতিবেশী - ব্রাহ্মণ না হলে কি সিদ্ধ হয়?

        শ্রীরামকৃষ্ণ - কেন? কলিতে শূদ্রের ভক্তির কথা আছে। শবরী, রুইদাস, গুহক চণ্ডাল - এ-সব আছে।

        নারায়ণ (সহাস্যে) - ব্রাহ্মণ, শুদ্র, সব এক।

        ব্রাহ্মণ - এক জন্মে কি হয়?

        শ্রীরামকৃষ্ণ - তাঁর দয়া হলে কি না হয়। হাজার বৎসরের অন্ধকার ঘরে আলো আনলে কি একটু একটু করেঅন্ধকার চলে যায়? একেবারে আলো হয়।

        (অতুলের প্রতি) - “তীব্র বৈরাগ্য চাই - যেন খাপখোলা তরোয়াল। সে বৈরাগ্য হলে, আত্মীয় কালসাপ মনেহয়, গৃহ পাতকুয়া মনে হয়।

        “আর আন্তরিক ব্যাকুল হয়ে তাঁকে ডাকতে হয়। আন্তরিক ডাক তিনি শুনবেনই শুনবেন।”

        সকলে চুপ করিয়া আছেন। ঠাকুর যাহা বলিলেন, একমনে শুনিয়া সেই সকল চিন্তা করিতেছেন।

        শ্রীরামকৃষ্ণ (অতুলের প্রতি) - কেন? অমন আঁট বুঝি হয় না - ব্যাকুলতা?

        অতুল - মন কই থাকে?

        শ্রীরামকৃষ্ণ - অভ্যাসযোগ! রোজ তাঁকে ডাকা অভ্যাস করতে হয়। একদিনে হয় না; রোজ ডাকতে ডাকতেব্যাকুলতা আসে।

         “কেবল রাতদিন বিষয়কর্ম করলে ব্যাকুলতা কেমন করে আসবে? যদু মল্লিক আগে আগে ঈশ্বরীয় কথা বেশশুনত, নিজেও বেশ বলত; আজকাল আর তত বলে না, রাতদিন মোসাহেব নিয়ে বসে থাকে, কেবল বিষয়ের কথা!”



Foot Note: