Chapter (অধ্যায়): দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ পৃষ্ঠা ৭৬২ Page: 762 of 1170
হঠাৎ শ্রীরামকৃষ্ণ গম্ভীর হইলেন, যেন কি গুহ্যকথা বলিবেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) - এখানে অপর লোক কেউ নাই। সেদিন - হরিশ কাছে ছিল - দেখলাম -খোলটি (দেহটি) ছেড়ে সচ্চিদানন্দ বাহিরে এল, এসে বললে, আমি যুগে যুগে অবতার! তখন ভাবলাম, বুঝি মনেরখেয়ালে ওই সব কথা বলছি। তারপর চুপ করে থেকে দেখলাম - তখন দেখি আপনি বলছে, শক্তির আরাধনাচৈতন্যও করেছিল।
ভক্তেরা সকলে অবাক্ হইয়া শুনিতেছেন। কেহ কেহ ভাবিতেছেন - সচ্চিদানন্দ ভগবান কি শ্রীরামকৃষ্ণের রূপধারণ করিয়া আমাদের কাছে বসিয়া আছেন? ভগবান কি আবার অবতীর্ণ হইয়াছেন?
শ্রীরামকৃষ্ণ কথা কহিতেছেন। মাস্টারকে সম্বোধন করিয়া আবার বলিতেছেন - “দেখলাম, পূর্ণ আর্বিভাব। তবেসত্ত্বগুণের ঐশ্বর্য।”
ভক্তেরা সকলে অবাক্ হইয়া এই সকল কথা শুনিতেছেন।
[যোগমায়া আদ্যাশক্তি ও অবতারলীলা]
শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) - এখন মাকে বলছিলাম, আর বকতে পারি না। আর বলছিলাম, ‘মা যেনএকবার ছুঁয়ে দিলে লোকের চৈতন্য হয়।’ যোগমায়ার এমনি মহিমা - তিনি ভেলকি লাগিয়ে দিতে পারেন।বৃন্দাবনলীলায় যোগমায়া ভেলকি লাগিয়ে দিলেন। তাঁরই বলে সুবোল কৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীমতীর মিলন করে দিছলেন।যোগমায়া - যিনি আদ্যাশক্তি - তাঁর একটি আকর্ষণী শক্তি আছে। আমি ওই শক্তির আরোপ করেছিলাম।
“আচ্ছা, যারা আসে তাদের কিছু কিছু হচ্ছে?”
মাস্টার - আজ্ঞা হাঁ, হচ্ছে বইকি।
শ্রীরামকৃষ্ণ - কেমন করে জানলে?
মাস্টার (সহাস্যে) সবাই বলে, তাঁর কাছে যারা যায় তারা ফেরে না!
শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) - একটা কোলাব্যাঙ হেলেসাপের পাল্লায় পড়েছিল। সে ওটাকে গিলতেও পারছে না,ছাড়তেও পারছে না! আর কোলাব্যাঙটার যন্ত্রণা - সেটা ক্রমাগত ডাকছে! ঢোঁড়াসাপটারও যন্ত্রণা। কিন্তুগোখরোসাপের পাল্লায় যদি পড়ত তাহলে দু-এক ডাকেই শান্তি হয়ে যেত। (সকলের হাস্য)
(ছোকরা ভক্তদের প্রতি) - “তোরা ত্রৈলোক্যের সেই বইখানা পড়িস - ভক্তিচৈতন্যচন্দ্রিকা। তার কাছে একখানাচেয়ে নিস না। বেশ চৈতন্যদেবের কথা আছে।”
একজন ভক্ত - তিনি দেবেন কি?
শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) - কেন, কাঁকুড়ক্ষেত্রে যদি অনেক কাঁকুড় হয়ে থাকে তাহলে মালিক ২/৩টা বিলিয়েদিতে পারে! (সকলের হাস্য) অমনি কি দেবে না - কি বলিস?

