Chapter (অধ্যায়): ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলরাম-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে পৃষ্ঠা ৭৯৯Page: 799 of 1170
“এই কামিনী-কাঞ্চন নিয়ে সকলে ভুলে আছে। আমার কিন্তু ও-সব ভাল লাগে না - মাইরি বলছি, ঈশ্বর বই আরকিছুই জানি না।”
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
সত্যকথা কলির তপস্যা - ঈশ্বরকোটি ও জীবকোটি
একজন ভক্ত - মহাশয়, নব-হুল্লোল বলে এক মত বেরিয়েছে। শ্রীযুক্ত ললিত চাটুজ্যে তার ভিতর আছেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ - নানা মত আছে। মত পথ। কিন্তু সব্বাই মনে করে, আমার মতই ঠিক - আমার ঘড়ি ঠিক চলছে।
গিরিশ (মাস্টারের প্রতি) - পোপ কি বলেন? It is with our judgements ইত্যাদি১।
শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) - এর মানে কি গা?
মাস্টার - সব্বাই মনে করে, আমার ঘড়ি ঠিক যাচ্ছে, কিন্তু ঘড়িগুলো পরস্পর মেলে না।
শ্রীরামকৃষ্ণ - তবে অন্য ঘড়ি যত ভুল হউক না, সূর্য কিন্তু ঠিক যাচ্ছে। সেই সূর্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হয়।
একজন ভক্ত - অমুকবাবু বড় মিথ্যা কথা কয়।
শ্রীরামকৃষ্ণ - সত্যকথা কলির তপস্যা। কলিতে অন্য তপস্যা কঠিন। সত্যে থাকলে ভগবানকে পাওয়া যায়।তুলসীদাস বলেছে, ‘সত্যকথা, অধীনতা, পরস্ত্রী মাতৃসমান - এইসে হরি না মিলে তুলসী ঝুট জবান্।’
“কেশব সেন বাপের ধার মেনেছিল, অন্য লোক হলে কখনও মানতো না, একে লেখাপড়া নাই। জোড়াসাঁকোরদেবেন্দ্রের সমাজে গিয়ে দেখলাম, কেশব সেন বেদীতে বসে ধ্যান করছে। তখন ছোকরা বয়েস। আমি সেজোবাবুকেবললাম, যতগুলি ধ্যান করছে এই ছোকরার ফতা (ফাত্না) ডুবেছে, - বড়শির কাছে মাছ এসে ঘুরছে।
“একজন - তার নাম করবো না - সে দশহাজার টাকার জন্য আদালতে মিথ্যা কথা কয়েছিল। জিতবে বলেআমাকে দিয়ে মা-কালীকে অর্ঘ্য দেওয়ালে। আমি বালকবুদ্ধিতে অর্ঘ্য দিলুম! বলে, বাবা এই অর্ঘটি মাকে দাওতো!”
ভক্ত - আচ্ছা লোক!
শ্রীরামকৃষ্ণ - কিন্তু এমনি বিশ্বাস আমি দিলেই মা শুনবেন!
ললিতবাবুর কথায় ঠাকুর বলিতেছেন -
“অহংকার কি যায় গা! দুই-এক জনের দেখতে পাওয়া যায় না। বলরামের
১ It is with our judgements as with our watches,
None goes just alike, yet each believes his own.

