Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণের কলিকাতায় ভক্তমন্দিরে আগমন - শ্রীযুক্ত গিরিশ ঘোষের বাটীতে উৎসব পৃষ্ঠা ৮১৬ Page: 816 of 1170
হেমকান্তি ঝামর হৈল। রাঙ্গাবাস খসিয়া পড়িল।।
আঁখিযুগ অরুণ হইল। মুখপদ্ম শুকাইয়া গেল।।
এমন হইল কি লাগিয়া। না কহিলে ফাটি যায় হিয়া।।
এত শুনি কহে ধনি রাই। শ্রীযদুনন্দন মুখ চাই।।
কীর্তনিয়া আবার গাইল - শ্রীমতী বংশীধ্বনি শুনিয়া পাগলের ন্যায় হইয়াছেন। সখীগণের প্রতি শ্রীমতীর উক্তি:
কদম্বের বনে, থাকে কোন্ জনে, কেমন শবদ্ আসি।
এক আচম্বিতে, শ্রবণের পথে, মরমে রহল পশি।।
সান্ধায়ে মরমে, ঘুচায়া ধরমে, করিল পাগলি পারা।
চিত স্থির নহে, শোয়াস বারহে, নয়নে বহয়ে ধারা।।
কি জানি কেমন, সেই কোন জন, এমন শবদ্ করে।
না দেখি তাহারে, হৃদয় বিদরে, রহিতে না পারি ঘরে।।
পরাণ না ধরে, কন কন করে, রহে দরশন আশে।
যবহুঁ দেখিবে, পরাণ পাইবে, কহয়ে উদ্ধব দাসে।।
গান চলিতে লাগিল। শ্রীমতীর কৃষ্ণদর্শন জন্য প্রাণ ব্যাকুল হইয়াছে। শ্রীমতী বলিতেছেন:
পহিলে শুনিনু, অপরূপ ধ্বনি, কদম্ব কানন হৈতে।
তারপর দিনে, ভাটের বর্ণনে, শুনি চমকিত চিতে।।
আর একদিন, মোর প্রাণ-সখী কহিলে যাহার নাম,
(আহা সকল মাধুর্যময় কৃষ্ণ নাম)।
গুণিগণ গানে, শুনিনু শ্রবণে, তাহার এ গুণগ্রাম।।
সহজে অবলা, তাহে কুলবালা, গুরুজন জ্বালা ঘরে।
সে হেন নাগরে, আরতি বাঢ়য়ে, কেমনে পরাণ ধরে।
ভাবিয়া চিন্তিয়া, মনে দঢ়াইনু, পরাণ বহিবার নয়।
কহত উপায় কৈছে মিলয়ে, দাস উদ্ধবে কয়।।
“আহা সকল মাধুর্যময় কৃষ্ণনাম!” এই কথা শুনিয়া ঠাকুর আর বসিতে পারিলেন না। একেবারে বাহ্যশূন্য, দণ্ডায়মান। সমাধিস্থ! ডানদিকে ছোট নরেন দাঁড়াইয়া। একটু প্রকৃতিস্থ হইয়া মধুর কণ্ঠে “কৃষ্ণ” “কৃষ্ণ” এই কথা সাশ্রুনয়নে বলিতেছেন। ক্রমে পুনর্বার আসন গ্রহণ করিলেন।
কীর্তনিয়া আবার গাইতেছেন। বিশাখা দৌড়িয়া গিয়া একখানি চিত্রপট আনিয়া শ্রীমতীর সম্মুখে ধরিলেন।চিত্রপটে সেই ভুবনরঞ্জনরূপ। শ্রীমতী পটদর্শনে বলিলেন, এই পটে যাঁকে দেখছি, তাঁকে যমুনাতটে দেখা অবধি আমার এই দশা হয়েছে।
কীর্তন - শ্রীমতির উক্তি -
যে দেখেছি যমুনাতটে। সেই দেখি এই চিত্রপটে।।
যার নাম কহিল বিশাখা। সেই এই পটে আছে লেখা।।

