Chapter (অধ্যায়): শ্রীরামকৃষ্ণের কলিকাতায় ভক্তমন্দিরে আগমন - শ্রীযুক্ত গিরিশ ঘোষের বাটীতে উৎসব পৃষ্ঠা ৮১৭Page: 817 of 1170


যাহার মুরলী ধ্বনি। সেই বটে এই রসিকমণি।।

               আধমুখে যার গুণ গাঁথা। দূতীমুখে শুনি যার কথা।।

               এই মোর হইয়াছে প্রাণ। ইহা বিনে কেহ নহে আন।।

               এত কহি মূরছি পড়য়ে। সখীগণ ধরিয়া তোলয়ে।।

               পুনঃ কহে পাইয়া চেতনে। কি দেখিনু দেখায় সে জনে।।

               সখীগণ করয়ে আশ্বাস। ভণে ঘনশ্যাম দাস।।

        ঠাকুর আবার উঠিলেন, নরেন্দ্রাদি সাঙ্গোপাঙ্গ লইয়া উচ্চ সংকীর্তন করিতেছেন:

        (১) - যাদের হরি বলতে নয়ন ঝরে তারা তারা দুভাই এসেছে রে।

               (যারা আপনি কেঁদে জগৎ কাঁদায়)    (যারা মার খেয়ে প্রেম যাচে)

                   (যারা ব্রজের কানাই বলাই)     (যারা ব্রজের মাখন চোর)

               (যারা জাতির বিচার নাহি করে)     (যারা আপামরে কোল দেয়)

               (যারা আপনি মেতে জগৎ মাতায়)     (যারা হরি হয়ে হরি বলে)।

                   (যারা জগাই মাধাই উদ্ধারিল)     (যারা আপন পর নাহি বাচে)।

                   জীব তরাতে তারা দুভাই এসেছে রে।   (নিতাই গৌর)

        (২) - নদে টলমল টলমল করে, গৌরপ্রেমের হিল্লোলে রে।

        ঠাকুর আবার সমাধিস্থ!

        ভাব উপষম হইলে আবার আসন গ্রহণ করিলেন।

        শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) - কোন্‌ দিকে সুমুখ ফিরে বসেছিলাম, এখন মনে নাই।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

শ্রীরামকৃষ্ণ ও নরেন্দ্র - হাজরার কথা - ছলরূপী নারায়ণ

ঠাকুর, ভাব উপশমের পর ভক্তসঙ্গে কথা কহিতেছেন।

        নরেন্দ্র (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি) - হাজরা এখন ভাল হয়েছে।

        শ্রীরামকৃষ্ণ - তুই জানিস নি, এমন লোক আছে, বগলে ইট, মুখে রাম রাম বলে।

        নরেন্দ্র - আজ্ঞা না, সব জিজ্ঞাসা করলুম, তা সে বলে, ‘না’।

        শ্রীরামকৃষ্ণ - তার নিষ্ঠা আছে, একটু জপটপ করে। কিন্তু অমন! - গাড়োয়ানকে ভাড়া দেয় না!

        নরেন্দ্র - আজ্ঞা না, সে বলে তো ‘দিয়েছি’ -

        শ্রীরামকৃষ্ণ - কোথা থেকে দেবে?

        নরেন্দ্র - রামলাল টামলালের কাছ থেকে দিয়েছে, বোধ হয়।

        শ্রীরামকৃষ্ণ - তুই সব কথা জিজ্ঞাসা কি করেছিস?



Foot Note: