Chapter (অধ্যায়): শ্রীশ্রীরথযাত্রা বলরাম-মন্দিরে পৃষ্ঠা ৮৭২Page: 872 of 1170


        “ওদের কেমন জান, - ফল আগে তারপর ফুল। আগে দর্শন, - তারপর গুণ-মহিমাশ্রবণ, তারপর মিলন!

        “নিরঞ্জনকে দেখ - লেনাদেনা নাই। - যখন ডাক পড়বে যেতে পারবে। তবে যতক্ষণ মা আছে, মাকে দেখতে হবে। আমি মাকে ফুল চন্দন দিয়ে পূজা করতাম। সেই জগতের মা-ই মা হয়ে এসেছেন। তাই কারু শ্রাদ্ধ, - শেষে ঈষ্টের পূজা হয়ে পড়ে। কেউ মরে গেলে বৈষ্ণবদের মহোৎসব হয়, তারও এই ভাব।

        “যতক্ষণ নিজের শরীরের খপর আছে ততক্ষণ মার খপর নিতে হবে। তাই হাজরাকে বলি, নিজের কাশি হলে মিছরি মরিচ করতে হয়, মরিচ-লবণের যোগাড় করতে হয়; যতক্ষণ এ-সব করতে হয়, ততক্ষণ মার খপরও নিতে হয়।

        “তবে যখন নিজের শরীরের খপর নিতে পাচ্ছি না, - তখন অন্য কথা। তখন ঈশ্বরই সব ভার লন।

        “নাবালক নিজের ভার নিতে পারে না। তাই তার অছি (Guardian) হয়। নাবালকের অবস্থা - যেমন চৈতন্যদেবের অবস্থা।”

        মাস্টার গঙ্গাস্নান করিতে গেলেন।

নবম পরিচ্ছেদ

শ্রীরামকৃষ্ণের কুষ্ঠি - পূর্বকথা - ঠাকুরের ঈশ্বরদর্শন

[রাম, লক্ষ্মণ ও পার্থসারথি-দর্শন - ন্যাংটা পরমহংসমূর্তি]

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তসঙ্গে সেই ছোট ঘরে কথা কহিতেছেন। মহেন্দ্র মুখুজ্জে, বলরাম, তুলসী, হরিপদ, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তেরা বসিয়া আছেন। গিরিশ ঠাকুরের কৃপা পাইয়া সাত-আট মাস যাতায়াত করিতেছেন। মাস্টার ইতিমধ্যে গঙ্গাস্নান করিয়া ফিরিয়াছেন ও ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া তাঁহার কাছে বসিয়াছেন। ঠাকুর তাঁহার অদ্ভুত ঈশ্বর-দর্শনকথা একটু একটু বলিতেছেন।

        “কালীঘরে একদিন ন্যাংটা আর হলধারী অধ্যাত্ম (রামায়ণ) পড়ছে। হঠাৎ দেখলাম নদী, তার পাশে বন, সবুজ রঙ গাছপালা, - রাম লক্ষ্মণ জাঙ্গিয়া পরা, চলে যাচ্ছেন। একদিন কুঠির সম্মুখে অর্জুনের রথ দেখলাম। - সারথির বেশে ঠাকুর বসে আছেন। সে এখনও মনে আছে।

        “আর একদিন, দেশে কীর্তন হচ্ছে, - সম্মুখে গৌরাঙ্গমূর্তি।

        “একজন ন্যাংটা সঙ্গে সঙ্গে থাকত - তার ধনে হাত দিয়ে ফচকিমি করতুম। তখন খুব হাসতুম। এ ন্যাংটোমূর্তি আমারই ভিতর থেকে বেরুত। পরমহংসমূর্তি, - বালকের ন্যায়।

        “ঈশ্বরীয় রূপ কত যে দর্শন হয়েছে, তা বলা যায় না। সেই সময়ে বড় পেটের ব্যামো। ওই সকল অবস্থায় পেটের ব্যামো বড় বেড়ে যেত। তাই রূপ দেখলে শেষে থু-থু করতুম - কিন্তু পেছেনে গিয়ে ভূত পাওয়ার মতো আবার আমায় ধরত! ভাবে



Foot Note: