Chapter (অধ্যায়): ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে পৃষ্ঠা ৯০৮Page: 908 of 1170


[গিরিশ ঘোষ ও অবতারবাদ! কে পবিত্র? যার বিশ্বাস-ভক্তি]

শ্রীযুক্ত গিরিশ ঘোষ দুই-একটি বন্ধু সঙ্গে গাড়ি করিয়া আসিয়া উপস্থিত। কিছু পান করিয়াছেন। কাঁদিতে কাঁদিতে আসিতেছেন ও ঠাকুরের চরণে মাথা দিয়া কাঁদিতেছেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ সস্নেহে তাঁহার গা চাপড়াইতে লাগিলেন। একজন ভক্তকে ডাকিয়া বলিতেছেন - “ওরে একে তামাক খাওয়া।”

গিরিশ মাথা তুলিয়া হাতজোড় করিয়া বলিতেছেন, তুমিই পূর্ণব্রহ্ম। তা যদি না হয়, সবই মিথ্যা!

“বড় খেদ রইল, তোমার সেবা করতে পেলুম না! (এই কথাগুলি এরূপ স্বরে বলিতেছেন যে, দু-একটি ভক্ত কাঁদিতেছেন!)

“দাও বর ভগবন্‌, এক বৎসর তোমার সেবা করব? মুক্তি ছড়াছড়ি, প্রস্রাব করে দি। বল, তোমার সেবা এক বৎসর করব?”

শ্রীরামকৃষ্ণ - এখানকার লোক ভাল নয় - কেউ কিছু বলবে।

গিরিশ - তা হবে না, বলো -

শ্রীরামকৃষ্ণ - আচ্ছা, তোমার বাড়িতে যখন যাব -

গিরিশ - না, তা নয়। এইখানে করব।

শ্রীরামকৃষ্ণ (জিদ দেখিয়া) - আচ্ছা, সে ঈশ্বরের ইচ্ছা।

ঠাকুরের গলায় অসুখ। গিরিশ আবার কথা কহিতেছেন, “বল, আরাম হয়ে যাক! - আচ্ছা, আমি ঝাড়িয়ে দেব। কালী! কালী!”

শ্রীরামকৃষ্ণ - আমার লাগবে!

গিরিশ - ভাল হয়ে যা! (ফুঁ)। ভাল যদি না হয়ে থাকে তো - যদি আমার ও-পায়ে কিছু ভক্তি থাকে, তবে অবশ্য ভাল হবে! বল, ভাল হয়ে গেছে।

শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্ত হইয়া) - যা বাপু, আমি ও-সব বলতে পারি না। রোগ ভাল হবার কথা মাকে বলতে পারি না। আচ্ছা ঈশ্বরের ইচ্ছায় হবে।

গিরিশ - আমায় ভুলোনো! তোমার ইচ্ছায়!

শ্রীরামকৃষ্ণ - ছি, ও-কথা বলতে নাই। ভক্তবৎ ন চ কৃষ্ণবৎ। তুমি যা ভাবো, তুমি ভাবতে পারো। আপনার গুরু তো ভগবান - তাবলে ও-সব কথা বলায় অপরাধ হয় - ও-কথা বলতে নাই।

গিরিশ - বল, ভাল হয়ে যাবে।

শ্রীরামকৃষ্ণ - আচ্ছা, যা হয়েছে তা যাবে।

গিরিশ নিজের ভাবে মাঝে মাঝে ঠাকুরকে সম্বোধন করিয়া বলিতেছেন,

“হ্যাঁগা, এবার রূপ নিয়ে আস নাই কেন গা?”



Foot Note: