Chapter (অধ্যায়): ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে পৃষ্ঠা ৯৩৪Page: 934 of 1170
ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে কি বলতে পারি? আমাদের ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে এ-সব কথা কি ধারণা হতে পারে? একসের ঘটিতে কি চারসের দুধ ধরে?
“তাই সাধু মহাত্মা যাঁরা ঈশ্বরলাভ করেছেন, তাঁদের কথা বিশ্বাস করতে হয়। সাধুরা ঈশ্বরচিন্তা লয়ে থাকেন, যেমন উকিলরা মোকদ্দমা লয়ে থাকে। তোমার কাকভূষণ্ডীর কথা কি বিশ্বাস হয়?”
ডাক্তার - যেটুকু ভাল, বিশ্বাস করলুম। ধরা দিলেই চুকে যায়, কোন গোল থাকে না। রামকে অবতার কেমন করে বলি? প্রথমে দেখ বালীবধ। লুকিয়ে চোরের মত বাণ মেরে তাকে মেরে ফেলা হল। এ তো মানুষের কাজ, ঈশ্বরের নয়।
গিরিশ ঘোষ - মহাশয়, এ-কাজ ঈশ্বরই পারেন।
ডাক্তার - তারপর দেখ সীতাবর্জন।
গিরিশ - মহাশয়, এ-কাজও ঈশ্বরই পারেন, মানুষ পারে না।
[সায়েন্স - না মহাপুরুষের বাক্য?]
ঈশান (ডাক্তারের প্রতি) - আপনি অবতার মানছেন না কেন? এই বললেন, যিনি আকার করেছেন তিনি সাকার, যিনি মন করেছেন তিনি নিরাকার। এই আপনি বললেন, ঈশ্বরের কাণ্ড হতে পারে।
শ্রীরামকৃষ্ণ (হাসিতে হাসিতে) - ঈশ্বর অবতার হতে পারেন, এ-কথা যে ওঁর সায়েন্স-এ (ইংরাজী বিজ্ঞানশাস্ত্রে) নাই! তবে কেমন করে বিশ্বাস হয়? (সকলের হাস্য)
“একটা গল্প শোন - একজন এসে বললে, ওহে! ও-পাড়ায় দেখে এলুম অমুকের বাড়ি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে গেছে। যাকে ও-কথা বললে, সে ইংরাজী লেখা-পড়া জানে। সে বললে দাঁড়াও, একবার খপরের কাগজখানা দেখি। খপরের কাগজ পড়ে দেখে যে, বাড়ি ভাঙার কথা কিছুই নাই। তখন সে ব্যক্তি বললে, ওহে তোমার কথায় আমি বিশ্বাস করি না। কই, বাড়ি ভাঙার কথা তো খপরের কাগজে লেখা নাই। ও-সব মিছে কথা।” (সকলের হাস্য)
গিরিশ (ডাক্তারের প্রতি) - আপনার শ্রীকৃষ্ণকে ঈশ্বর মানতে হবে। আপনাকে মানুষ মানতে দেব না। বলতে হবে Demon or God (হয় শয়তান, নয় ঈশ্বর) ।
[সরলতা ও ঈশ্বরে বিশ্বাস]
শ্রীরামকৃষ্ণ - সরল না হলে ঈশ্বরে চট করে বিশ্বাস হয় না। বিষয়বুদ্ধি থেকে ঈশ্বর অনেক দূর। বিষয়বুদ্ধি থাকলে নানা সংশয় উপস্থিত হয়, আর নানারকম অহংকার এসে পড়ে - পাণ্ডিত্যের অহংকার, ধনের অহংকার - এই সব। ইনি (ডাক্তার) কিন্তু সরল।
গিরিশ (ডাক্তারের প্রতি) - মহাশয়! কি বলেন? কুরুটের কি জ্ঞান হয়?
ডাক্তার - রাম বলো! তাও কখন হয়!
শ্রীরামকৃষ্ণ - কেশব সেন কি সরল ছিল! একদিন ওখানে (রাসমণির

