Chapter (অধ্যায়): ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে পৃষ্ঠা ৯৮৩Page: 983 of 1170


ত্রয়স্ত্রিংশ পরিচ্ছেদ

১৮৮৫, ২৯শে অক্টোবর

শ্রীরামকৃষ্ণ, ডাক্তার সরকার, ভাদুড়ী প্রভৃতি সঙ্গে

[ডাক্তার সরকার, ভাদুড়ী, দোকড়ি, ছোট নরেন, মাস্টার, শ্যাম বসু]

ডাক্তার ও মাস্টার শ্যামপুকুরে আসিয়া দ্বিতল গৃহে উপস্থিত হইলেন। সেই গৃহের বাহিরের উপরে বারান্দাওয়ালা দুটি ঘর আছে। একটি পূর্ব-পশ্চিমে ও অপরটি উত্তর-দক্ষিণে দীর্ঘ। তাহার প্রথম ঘরটিতে গিয়া দেখেন, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বসিয়া আছেন। ঠাকুর সহাস্য। কাছে ডাক্তার ভাদুড়ী ও অনেকগুলি ভক্ত।

ডাক্তার হাত দেখিলেন ও পীড়ার অবস্থা সমস্ত অবগত হইলেন। ক্রমে ঈশ্বর সম্বন্ধীয় কথা হইতে লাগিল।

ভাদুড়ী - কথাটা কি জান? সব স্বপ্নবৎ।

ডাক্তার - সবই ডিলিউসন্‌(ভ্রম)? তবে কার ডিলিউসন্‌আর কেন ডিলিউন্‌? আর সব্বাই কথাই বা কয় কেন, ডিলিউসন্‌ জেনেও? I cannot believe that God is real and creation is unreal. (ঈশ্বর সত্য, আর তাঁর সৃষ্টি মিথ্যা, এ বিশ্বাস করিতে পারি না।)

[সোঽহম্‌ ও দাসভাব - জ্ঞান ও ভক্তি]

শ্রীরামকৃষ্ণ - এ বেশ ভাব - তুমি প্রভু, আমি দাস। যতক্ষণ দেহ সত্য বলে বোধ আছে, আমি তুমি আছে, ততক্ষণ সেব্য সেবকভাবই ভাল; আমি সেই, এ-বুদ্ধি ভাল নয়।

“আর কি জান? একপাশ থেকে ঘরকে দেখছি, এও যা, আর ঘরের মধ্যে থেকে ঘরকে দেখছি, সেও তাই।”

ভাদুড়ী (ডাক্তারের প্রতি) - এ-সব কথা যা বললুম, বেদান্তে আছে। শাস্ত্র-টাস্ত্র দেখ, তবে তো।

ডাক্তার - কেন, ইনি কি শাস্ত্র দেখে বিদ্বান হয়েছেন? আর ইনিও তো ওই কথা বলেন। শাস্ত্র না পড়লে হবে না?

শ্রীরামকৃষ্ণ - ওগো, আমি শুনেছি কত?

ডাক্তার - শুধু শুনলে কত ভুল থাকতে পারে। তুমি শুধু শোন নাই।

আবার অন্য কথা চলিতে লাগিল।

[‘ইনি পাগল’ - ঠাকুরের পায়ের ধুলা দেওয়া]

শ্রীরামকৃষ্ণ (ডাক্তারের প্রতি) - আপনি নাকি বলেছো, ‘ইনি পাগল’? তাই এরা (মাস্টার ইত্যাদির দিকে দেখাইয়া) তোমার কাছে যেতে চায় না।

ডাক্তার (মাস্টারের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া) - কই? তবে অহংকার বলেছি। তুমি লোককে পায়ের ধুলা নিতে দাও কেন?



Foot Note: