Chapter (অধ্যায়): ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ - ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দের পুনর্যাত্রা ও গোপালের মার শেষকথা পৃষ্ঠা ১৩৮Page: 138 of 165
সপ্তম অধ্যায়
ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ— ১৮৮৫ খ্রীস্টাব্দের পুনর্যাত্রা
ও গোপালের মার শেষ কথা
অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্।।
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, ৯ |২২
‘
|
বলরাম বসুর বাটীতে পুনর্যাত্রা উপলক্ষে উৎসব |
কামারহাটির ব্রাহ্মণী’র গোপালরূপী শ্রীভগবানের দর্শনের কিছুকাল পরে রথের সময় ঠাকুর কলিকাতায় শুভাগমন করিয়াছেন— বাগবাজারের বলরাম বসুর বাটীতে ভক্তদের ভিড় লাগিয়াছে—
বলরামবাবুও আনন্দে আটখানা হইয়া সকলকে সমুচিত আদর-অভ্যর্থনা করিতেছেন। বসুজ মহাশয় পুরুষানুক্রমে বনিয়াদি ভক্ত— এক পুরুষে নয়। ঠাকুরের কৃপাও তাঁহার ও তৎপরিবারবর্গের উপর অসীম।
|
ঠাকুরের শ্রীচৈতন্য-দেবের সঙ্কীর্তন দেখিবার সাধ ও তদ্দর্শন বলরাম বসুকে উহার ভিতর দর্শন করা |
ঠাকুরের শ্রীমুখ হইতে শুনা— এক সময়ে ঠাকুরের শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবের সঙ্কীর্তন করিতে করিতে নগর প্রদক্ষিণ করা দেখিবার সাধ হইলে ভাবাবস্থায় তদ্দর্শন হয়। সে এক অদ্ভুত ব্যাপার— অসীম জনতা, হরিনামে উদ্দাম উন্মত্ততা! আর সেই উন্মাদ-তরঙ্গের ভিতর উন্মাদ শ্রীগৌরাঙ্গের উন্মাদনী আকর্ষণ ! সেই অপার জনসঙ্ঘ ধীরে ধীরে দক্ষিণেশ্বরের উদ্যানের পঞ্চবটীর দিক হইতে ঠাকুরের ঘরের সম্মুখ দিয়া অগ্রে চলিয়া যাইতে লাগিল। ঠাকুর বলিতেন— উহারই ভিতর যে কয়েকখানি মুখ ঠাকুরের স্মৃতিতে চির-অঙ্কিত ছিল বলরামবাবুর ভক্তি জ্যোতিঃপূর্ণ স্নিগ্ধোজ্জ্বল মুখখানি তাহাদের অন্যতম। বলরামবাবু যেদিন প্রথম ঠাকুরকে দর্শন করিতে দক্ষিণেশ্বর কালীবাটীতে উপস্থিত হন, সেদিন ঠাকুর তাঁহাকে দেখিবামাত্র চিনিয়াছিলেন— এ ব্যক্তি সেই লোক।
|
বলরামের নানাস্থানে ঠাকুর-সেবার ও শুদ্ধ অন্নের কথা |
বসুজ মহাশয়ের কোঠারে (উড়িষ্যার অন্তর্গত) জমিদারি ও শ্যামচাঁদবিগ্রহের সেবা আছে, শ্রীবৃন্দাবনে কুঞ্জ ও শ্যামসুন্দরের সেবা আছে এবং কলিকাতার বাটীতেও ৺জগন্নাথদেবের বিগ্রহ১ ও সেবাদি আছে। ঠাকুর বলিতেন, “বলরামের শুদ্ধ অন্ন—ওদের পুরুষানুক্রমে ঠাকুর-সেবা ও অতিথি-ফকিরের সেবা— ওর বাপ সব ত্যাগ করে শ্রীবৃন্দাবনে বসে
১ এই বিগ্রহ এখন কোঠারে আছেন।

