Chapter (অধ্যায়): গুরুভাব ও নানা সাধুসম্প্রদায় পৃষ্ঠা ৩৪Page: 34 of 165


না। আমার এখন আর মনে দুঃখকষ্ট নাই! তোমার কাছে ও সুখে থাকে, আনন্দে খেলাধুলো করে, তাই দেখেই আমি আনন্দে ভরপুর হয়ে যাই। এখন আমার এমনটা হয়েছে যে ওর যাতে সুখ, তাতেই আমার সুখ! সেজন্য আমি এখন একে তোমার কাছে রেখে অন্যত্র যেতে পারব। তোমার কাছে সুখে আছে ভেবে ধ্যান করেই আমার আনন্দ হবে।'— এই বলে রামলালাকে আমায় দিয়ে বিদায় গ্রহণ করলে। সেই অবধি রামলালা এখানে রয়েছে।”

ঠাকুরের দেবসঙ্গে বাবাজির স্বার্থশূন্য প্রেমানুভব

আমরা বুঝিলাম ঠাকুরের দেবসঙ্গেই বাবাজির মন স্বার্থগন্ধহীন ভালবাসার আস্বাদন পাইল এবং বুঝিতে পারিল যে ঐ প্রেমে  প্রেমাস্পদের সহিত আর বিচ্ছেদের আশঙ্কা নাই। বুঝিল যে, তাহার শুদ্ধ-প্রেমঘন উপাস্য তাহার নিকটেই সর্বদা রহিয়াছেন, যখনি ইচ্ছা তখনি তাঁহার দর্শন পাইবে! সাধু ঐ আশ্বাস পাইয়াই যে প্রাণের রামলালাকে ছাড়িয়া যাইতে পারিয়াছিল, ইহা নিঃসংশয়।

 

জনৈক সাধুর রামনামে বিশ্বাস

ঠাকুর বলিতেন, “আবার এক সাধু এসেছিল, তার ঈশ্বরের নামেই একান্ত বিশ্বাস ! সেও রামাৎ; তার সঙ্গে অন্য কিছুই নেই, কেবল একটি লোটা (ঘটি) ও একখানি গ্রন্থ। গ্রন্থখানি তার বড়ই আদরের—ফুল দিয়ে নিত্য পূজা করত ও এক একবার খুলে দেখত। তার সঙ্গে আলাপ হবার পর একদিন অনেক করে বলে কয়ে বইখানি   দেখতে চেয়ে নিলুম। খুলে দেখি তাতে কেবল লাল কালিতে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে, ‘ও রামঃ ! সে বললে, “মেলা গ্রন্থ পড়ে কি হবে ? এক ভগবান থেকেই তো বেদ-পুরাণ সব বেরিয়েছে। আর তাঁর নাম এবং তিনি তো অভেদ ; অতএব চার বেদ, আঠার পুরাণে, আর সব শাস্ত্রে যা আছে, তাঁর একটি নামেতে সে-সব রয়েছে। তাই তাঁর নাম নিয়েই আছি! তার (সাধুর) নামে এমনি বিশ্বাস ছিল!”

রামাইৎ সাধুদের ভজন-সঙ্গীত ও দোঁহাবলী

এইরূপে কত সাধুর কথাই না ঠাকুর আমাদিগের নিকট বলিতেন; আবার কখন  কখনও ঐ সকল রামাইৎ বাবাজিদের নিকট যে সকল ভগবানের ভজন শিখিয়াছিলেন, তাহা 'গাহিয়া আমাদের  শুনাইতেন। যথা—

(মেরা) রামকো না চিনা হ্যায়, দিল, চিনা হ্যায় তুম ক্যারে ;

আওর্ জানা হ্যায় তুম্ ক্যারে।

সন্ত ওহি যো, রাম-রস চাখে

আওর্ বিষয়-রস চাখা হ্যায় সো ক্যারে ।।

পুত্র ওহি যো, কুলকো তারে

                                                আওর্ যো সব পুত্র হ্যায় সো ক্যারে৷

অথবা-

 সীতাপতি রামচন্দ্র,                           রঘুপতি রঘুরাঈ।

 ভজলে অযোধ্যানাথ,                          দুসরা ন কোঈ ।।

 হসন বোলন চতুর চাল,               অয়ন বয়ান দৃগ্-বিশাল।

 ভ্রূকুটি কুটিল তিলক ভাল,                  নাসিকা শোভাঈ৷৷



Foot Note: