Chapter (অধ্যায়): ঠাকুরের কলিকাতায় আগমন পৃষ্ঠা-১৫০Page: 150 of 203


একটিমাত্র ঘটনার উল্লেখ করিয়া আমরা নিরস্ত হইব।

বলরামভবনে একদিনের ঘটনা

আমরা তখন কলেজে পড়িতাম, সুতরাং সপ্তাহের মধ্যে দুই-এক দিন মাত্র ঠাকুরকে দেখিতে আসিবার অবসর পাইতাম। এক দিবস অপরাহ্নে ঐরূপে বলরামের ভবনে  আসিয়া দেখি, দ্বিতলের বৃহৎ ঘরখানি লোকে পূর্ণ ও গিরিশচন্দ্র  এবং কালীপদ১ মহোৎসাহে গান ধরিয়াছে,

 

আমায় ধর নিতাই।

আমার প্রাণ যেন আজ করে রে কেমন।

গৃহমধ্যে কোনরূপে প্রবেশ করিয়া দেখিলাম, ঘরের পশ্চিম প্রান্তে পূর্ব-মুখে উপবিষ্ট থাকিয়া ঠাকুর সমাধিস্থ হইয়াছেন। তাঁহার মুখে প্রসন্নতা ও আনন্দের অপূর্ব হাসি, দক্ষিণ চরণ উথ্থিত ও প্রসারিত এবং সম্মুখে উপবেশন করিয়া এক ব্যক্তি পরম প্রেমের সহিত ঐ চরণখানি অতি সন্তর্পণে বক্ষে ধারণ করিয়া রহিয়াছে । ঠাকুরের পদপ্রান্তে যে ঐরূপে উপবিষ্ট রহিয়াছে, তাঁহার চক্ষু নিমীলিত এবং মুখ ও বক্ষ নয়নধারায় সিক্ত হইতেছে। গৃহ নিস্তব্ধ এবং একটা দিব্যাবেশে জমজম করিতেছে । গান চলিতে লাগিল।

আমার প্রাণ যেন আজ করে রে কেমন,

আমায় ধর নিতাই।

(নিতাই) জীবকে হরিনাম বিলাতে

 উঠল যে ঢেউ প্রেমনদীতে

সেই তরঙ্গে এখন আমি ভাসিয়ে যাই ।

(নিতাই) খত লিখেছি আপন হাতে

অষ্ট সখী সাক্ষী তাতে

(এখন) কি দিয়ে শুধিব আমি প্রেমের মহাজন।

(আমার) সঞ্চিত ধন ফুরাইল

তবু ঋণের শোধ না হল,

প্রেমের দায়ে এখন আমি বিকাইয়ে যাই।

গীত সাঙ্গ হইলে কতক্ষণ পরে ঠাকুর অর্ধবাহ্যদশা প্রাপ্ত হইয়া সম্মুখস্থ ব্যক্তিকে বলিলেন, “বল শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য— বল শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য— বল শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য।” ঐরূপে উপর্যুপরি তিন বার তাহাকে ঐ নাম উচ্চারণ করাইবার কিছুক্ষণ পরে ঠাকুর পুনরায় প্রকৃতিস্থ হইয়া অন্যের সহিত বাক্যালাপে প্রবৃত্ত হইলেন। জিজ্ঞাসা করিয়া পরে আমরা জানিতে পারিয়াছিলাম, ঐ ব্যক্তির নাম নৃত্যগোপাল গোস্বামী, ঢাকার কোন কলেজে তিনি অধ্যয়ন করাইয়া থাকেন, ঠাকুরের পীড়ার কথা শুনিয়া তাঁহাকে দেখিতে আসিয়াছেন। গোস্বামী যেমন ভক্তিমান, দেখিতে তেমনি সুপুরুষ ছিলেন।



Foot Note:

১    শ্ৰীগিরিশচন্দ্র ঘোষ ও শ্রীকালীপদ ঘোষ