Chapter (অধ্যায়): ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান পৃষ্ঠা-১৮৫Page: 185 of 203


মহিম চক্রবর্তীর লোকমান্য লাভের লালসা

কিসে লোকে তাঁহাকে ধনী, বিদ্বান, বুদ্ধিমান, ধার্মিক, দানশীল ইত্যাদি যাবতীয় সদগুণশালী  বলিবে, এই ভাবনা তাঁহার জীবনের প্রত্যেক কার্য নিয়মিত করিয়া  সময়ে সময়ে তাঁহাকে লোকের নিকটে হাস্যাস্পদ করিয়া তুলিত । চক্রবর্তী মহাশয় কোন সময়ে এক অবৈতনিক বিদ্যালয় খুলিয়া তাহার নাম রাখিয়াছিলেন, প্রাচ্য-আর্য- শিক্ষা-কাণ্ড-পরিষৎ', তাঁহার একমাত্র পুত্রের নাম রাখিয়াছেন, 'মৃগাঙ্ক-মৌলি পুততুণ্ডী', বাটীতে একটি হরিণ ছিল তাঁহার নামকরণ করিয়াছিলেন, 'কপিঞ্জল’। কারণ তাঁহার ন্যায় পণ্ডিত ব্যক্তির ছোটখাট সরল নাম রাখা কি শোভা পায় ? তাঁহার ইংরাজী, সংস্কৃত নানা গ্রন্থ সংগ্রহ ছিল। আলাপ হইবার পরে একদিন নরেন্দ্রনাথের সহিত তাঁহার বাটীতে যাইয়া আমরা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম, 'চক্রবর্তী মহাশয়, আপনি এত গ্রন্থ সব পড়িয়াছেন ? উত্তরে তিনি সবিনয়ে উহা স্বীকার করিয়াছিলেন। কিন্তু পরক্ষণেই নরেন্দ্র উহার মধ্যস্থিত কতকগুলি গ্রন্থ বাহির করিয়া উহাদিগের পাতা কাটা নাই দেখিয়া কারণ জিজ্ঞাসা করিলে বলিয়াছিলেন, 'কি জান ভায়া, লোকে আমার পড়া পুস্তকগুলি লইয়া যাইয়া আর ফিরাইয়া দেয় নাই, তাহার স্থলে এই পুস্তকগুলি পুনরায় কিনিয়া রাখিয়াছি, এখন আর কাহাকেও পুস্তক লইয়া যাইতে দিই না।' নরেন্দ্রনাথ কিন্তু স্বল্প দিনেই আবিষ্কার করিয়া ছিলেন, চক্রবর্তী মহাশয়ের সংগৃহীত যাবতীয় পুস্তকেরই পাতা কাটা নাই ! সুতরাং ঐ সকল গ্রন্থ যে তিনি কেবলমাত্র লোকমান্যলাভ ও গৃহশোভা বর্ধনের জন্য রাখিয়াছিলেন, তদ্বিষয়ে নরেন্দ্রের একরূপ দৃঢ় ধারণা হইয়াছিল।

জ্ঞানী মহিমের ব্যাঘ্রাজিন

আমাদের সহিত আলাপ হইবার কালে ধর্মসাধনার কথাপ্রসঙ্গে চক্রবর্তী মহাশয় আপনাকে জ্ঞানমার্গের সাধক বলিয়া পরিচয় দিয়াছিলেন। কলিকাতাবাসী ভক্তসকলের ঠাকুরের নিকট যাইবার বহু বৎসর পূর্ব হইতে মহিমাচরণ দক্ষিণেশ্বরে  যাতায়াত করিতেন এবং কোন কোন পর্বদিবসে পঞ্চবটীতলে ব্যাঘ্রচর্ম বিছাইয়া গেরুয়াবস্ত্র পরিধান, রুদ্রাক্ষ ধারণ ও একতারা গ্রহণপূর্বক আড়ম্বর করিয়া সাধনায় বসিতেন। গৃহে ফিরিবার কালে ব্যাঘ্রাজিনখানি ঠাকুরের ঘরের এক কোণে দেওয়ালের গায়ে ঝুলাইয়া রাখিয়া যাইতেন ! ঠাকুর তাঁহাকে এক ‘আঁচড়েই’ চিনিয়া লইয়াছিলেন। কারণ ঐ ব্যাঘ্রাজিনখানি কাহার, একথা আমাদিগের একজন এক দিবস প্রশ্ন করিলে বলিয়াছিলেন, “ওখানি মহিম চক্রবর্তী রাখিয়া গিয়াছে। কেন জান? লোকে উহা দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিবে ওখানি কার এবং আমি তাহার নাম করিলে ধারণা করিবে মহিম চক্রবর্তী একটা মস্ত  সাধক ।"

মহিমের গুরু

দীক্ষাসম্বন্ধে কথা উঠিলে মহিমবাবু কখন বলিতেন, “আমার গুরুদেবের নাম আগমাচার্য ডমরুবল্লভ।" আবার কখন বলিতেন, “ঠাকুরের ন্যায় তিনিও পরমহংস পরিব্রাজক শ্রীযুক্ত তোতাপুরীর নিকট দীক্ষাগ্রহণ করিয়াছেন ! পশ্চিমে তীর্থপৰ্যটনকালে  একস্থানে তাঁহার দর্শন পাইয়াছিলাম এবং দীক্ষিত হইয়াছিলাম,ঠাকুরকে তিনি ভক্তি অবলম্বন করিয়া থাকিতে বলিয়াছেন এবং আমাকে জ্ঞানমার্গের সাধক হইয়া সংসারে থাকিতে উপদেশ দিয়াছেন।” বলা বাহুল্য, ঐকথা কতদূর সত্য তাহা তিনি স্বয়ং এবং সর্বান্তর্যামী পুরুষই জানিতেন।

সাধনার মধ্যে দেখা যাইত মহিমবাবু যখন তখন এবং যেখানে সেখানে একতারার সুরের



Foot Note: