Chapter (অধ্যায়): ব্রাহ্মসমাজে ঠাকুরের প্রভাব পৃষ্ঠা-৭Page: 7 of 203
তাঁহাদিগের সহিত ঐ পথে অগ্রসর হউক বা না হউক,একমাত্র ঈশ্বর-লাভকেই তাঁহাদিগকে জীবনোদ্দেশ্যরূপে অবলম্বন করাইতে সচেষ্ট হইয়াছিলেন। ফলে, শ্রীযুত কেশব সদলবলে তৎপ্রদর্শিত মার্গে অনেক দূর অগ্রসর হইয়াছিল—মধুর মাতৃনামে ঈশ্বরকে সম্বোধন ও তাঁহার মাতৃত্বের উপাসনা সমাজে প্রচলিত হইয়াছিল এবং উক্ত সমাজের সাহিত্য, সঙ্গীত প্রভৃতি সকল বিষয়ে ঠাকুরের ভাব প্রবিষ্ট হইয়া উহাকে সরস করিয়া তুলিয়াছিল। শুদ্ধ তাহা নহে ; কিন্তু ভ্রম ও কুসংস্কারপূর্ণ ভাবিয়া হিন্দুদিগের যে আদর্শ ও অনুষ্ঠানসকল হইতে ব্রাহ্মসমাজ আপনা কে বিচ্ছিন্ন ও পৃথক করিয়াছিল, সে সকলের মধ্যে অনেক বিষয় ভাবিবার এবং শিখিবার আছে— উক্ত সমাজের নেতাগণ এ কথাও ঠাকুরের জীবনালোকে বুঝিতে পারিয়াছিলেন।
|
ব্রাহ্মগণকে 'ল্যাজা- মুড়ো’ বাদ দিয়া তাঁহার কথা গ্রহণ করিতে বলিবার কারণ |
পাশ্চাত্যভাবে ভাবিত কেশব ও তাঁহার সঙ্গিগণ তাঁহার সকল প্রকার ভাব ও উপদেশ যে যথাযথ বুঝিতে পারিবেন না এবং যাহা বুঝিতে পারিবেন তাহাও সম্যক গ্রহণ করা তাঁহাদিগের রূচিকর হইবে না — এ বিষয় ঠাকুর পূর্ব হইতেই হৃদয়ঙ্গম করিয়াছিলেন। তাঁহাদিগকে উপদেশপ্রদানকালে কোন কথা বলিবার পরে ঐ বিষয় স্মরণ করিয়া তিনি সেজন্য প্রায়ই বলিতেন, “আমি যাহা হয় বলিয়া যাইলাম, তোমরা উহার ল্যাজা-মুড়ো বাদ দিয়া গ্রহণ করিও।” আবার ব্রাহ্মসমাজভুক্ত অনেক ব্যক্তির নিকটে সমাজসংস্কার এবং ভোগ বাসনার তৃপ্তিসাধন জীবনোদ্দেশের স্থল অধিকার করিয়াছে— এ কথা তাঁহার বুঝিতে বিলম্ব হয় নাই। ঐ বিষয় তিনি অনেক সময়ে রহস্যচ্ছলে প্রকাশও করিতেন। বলিতেন— “কেশবের ওখানে গিয়াছিলাম। তাঁহাদের উপাসনা দেখিলাম। অনেকক্ষণ ভগবদ ঐশ্বর্যের
|
ঠাকুরের রহস্যচ্ছলে শিক্ষাপ্রদান |
কথাবার্তার পরে বলিল-“এইবার আমরা তাঁহার (ঈশ্বরের) ধ্যান করি।' ভাবিলাম কতক্ষণ না জানি ধ্যান করিবে! ওমা! দু-মিনিট চোক্ বুজিতে না বুজিতেই হইয়া গেল।— এই রকম ধ্যান করিয়া কি তাঁহাকে পাওয়া যায় ? যখন তাঁহারা সব ধ্যান করিতেছিল, তখন সকলের মুখের দিকে তাকাইয়া দেখিলাম । পরে কেশবকে বলিলাম, “তোমাদের অনেকের ধ্যান দেখিলাম, কি মনে হইল জান ?— দক্ষিণেশ্বরে ঝাউতলায় কখন কখনও হনুমানের পাল চুপ করিয়া বসিয়া থাকে— যেন কত ভাল, কিছু জানে না । কিন্তু তা নয়, তারা তখন বসিয়া । বসিয়া ভাবিতেছে— কোন্ গৃহস্থের চালে লাউ বা কুমড়োটা আছে, কাহার বাগানে কলা বা বেগুন হইয়াছে। কিছুক্ষণ পরেই উপ্ করিয়া সেখানে গিয়া পড়িয়া সেইগুলি ছিঁড়িয়া লইয়া উদরপূর্তি করে। অনেকের ধ্যান দেখিলাম ঠিক সেই রকম! সকলে শুনিয়া হাসিতে লাগিল।”
ঐরূপে রহস্যচ্ছলে শিক্ষাপ্রদান তিনি কখন কখনও আমাদিগকেও করিতেন। আমাদের স্মরণ আছে, স্বামী বিবেকানন্দ একদিন তাঁহার সম্মুখে ভজন গাহিতেছিলেন। স্বামীজী তখন ব্রাহ্মসমাজে যাতায়াত করেন এবং প্রাতে ও সন্ধ্যায় দুইবার উক্ত সমাজের ভাবে উপাসনা ও ধ্যানাদি করিয়া থাকেন। “(সেই) এক পুরাতন পুরুষ নিরঞ্জনে চিত্ত সমাধান কর রে” ইত্যাদি ব্ৰহ্মসঙ্গীতটি তিনি অনুরাগের সহিত তন্ময় হইয়া গাহিতে লাগিলেন। উক্ত সঙ্গীতের একটি কলিতে আছে—“ভজন-সাধন তার,

