Chapter (অধ্যায়): কর্মযোগ-প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ১২৪Page: 124 of 320
করতে পারো, কিছুই তোমাদের বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারবে না। কিন্তু তোমরা যে অভিযোগ কর, বহিঃ প্রকৃতির উপর দোষা রোপ কর- তাই প্রমাণ করে যে, তোমরা বহিঃ প্রকৃতি সম্বন্ধে সচেতন এবং তোমাদের এই রকম অনুভুতি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নিজেদের স্বরূপ ও মহত্ত্ব সম্বন্ধে তোমরা যে দাবি কর, বস্তুতঃ তোমরা তানও। দুঃখের উপর দুঃখ স্তুপীকৃত করে, কেবল বহিঃ প্রকৃতি তোমাদের আঘাত হানছে এইরকম কল্পনা করে এবং 'হায়'! কি ভীষণ শয়তানের জগৎ! ‘লোকটি আমাকে আঘাত করছে, ঐ ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিচ্ছে’ ইত্যাদি চীৎকার করে তোমরা নিজেদের অপরাধ, দুঃখ দুর্দশা বাড়িয়ে তুলছ। একে তো দুঃখ পাচ্ছ, তার উপরে মিথ্যা আরোপ করছ। কিছুকালের জন্য অন্যের কথা ছেড়ে দিয়ে আমাদের নিজেদের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে; এইটুকু আমরা নিশ্চয়ই করতে পারি। এস, আমরা কাজের উপায় গুলি নিখুঁত করে তুলি; তাহা হলে উদ্দেশ্যও নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের জীবন যদি মহৎ ও পবিত্র হয়, তবেই এজগৎ মহৎ ও পবিত্র হতে পারে। জগৎকার্য-স্বরূপ, আমরা কারণ-স্বরূপ। সুতরাং এস, আমরা নিজেদের নিষ্কলুষ ও পূর্ণ করে তুলি।
কর্মযোগ-প্রসঙ্গে
যাবতীয় স্থূল ও সূক্ষ্ম বস্তু থেকে আত্মাকে আলাদা করাই আমাদের লক্ষ্য। এই অবস্থা লাভ হলে বোধ হবে,আত্মা সর্বকালে একাই বিদ্যমান ছিলেন-তাঁকে সুখী করবার জন্য অন্য কারও প্রয়োজন নেই। সুখী হবার জন্য আমরা যতদিন অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকব,ততদিন আমরা ক্রীতদাস। ‘পুরুষ’ যখন দেখেন তিনি মুক্ত,তাঁর পূর্ণতার জন্য কিছুরই প্রয়োজন নেই এবং এই প্রকৃতি সম্পূর্ণ অনাবশ্যক,তখন মুক্তি বা ‘কৈবল্য’ লাভ হয়।
কয়েকটা ডলারের প্রত্যাশায় মানুষ ছুটাছুটি করে এবং তার জন্য সে তার প্রতিবেশীকে প্রতারণা করতেও কুন্ঠিত হয় না। কিন্তু তারা যদি নিজেদের সংযত করতে পারে,তবে কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের চরিত্র এরকম উন্নত হবে যে,তখন তারা ইচ্ছা করলেই লক্ষ লক্ষ ডলার উপার্জন করতে পারবে। তখন তাদের ইচ্ছাশক্তি জগৎকে নিয়ন্ত্রিত করবে। কিন্তু আমরা সব বড়ই নির্বোধ!
একজনের ভুলত্রুটির কথা সর্বসমক্ষে বলে লাভ কি? এভাবে ত্রুটি সংশোধিত হয় না। কারণ কৃতকর্মের জন্য মানুষকে দুঃখ ভোগ করতে হবেই। অবশ্যই চেষ্টা করে উন্নতিলাভ করতে হবে। যারা দৃঢ় এবং শক্তিশালী,জগৎ তাদেরই প্রতি সহানুভূতিশীল। যে-কাজ মানবজাতি ও প্রকৃতির উদ্দেশ্যে নিজের ইচ্ছায় করে দেওয়া হয়, তাই আসক্তি বা বন্ধনের কারণ হয় না।

