Chapter (অধ্যায়): কর্মবিধান ও মুক্তি পৃষ্ঠা ১৩৭Page: 137 of 320


ভুল।সে এই প্রকৃতিকে মুক্ত বলে মনে করে, নিয়মের দ্বারা শাসিত মনে করে না। মানব-জীবনের এইসব অভিজ্ঞতার পরই আমরা এই রকম চিন্তা করতে শিখব, কিন্তু আরও দার্শনিক অর্থে। উদাহরণস্বরূপঃ আমি রাস্তায় বার হতে চাই। ইচ্ছার প্রেরণা পেলাম, তারপর থেমে গেলাম; ইচ্ছা হওয়া ও রাস্তায় বার হওয়ার মধ্যে যে-সময়টুকুর ব্যবধান, সেই সময়ে আমি সমভাবে কাজ করতে থাকি। কাজের সঙ্গতিকেই আমরা নিয়ম বা বিধি বলি। আমার কাজের এই সঙ্গতি অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত, সেজন্যই আমার কাজগুলিকে আমি নিয়মাধীন বলি না। আমি স্বাধীনভাবে কাজ করি। পাঁচ মিনিট ভ্রমণ করি; কিন্তু ঐ পাঁচ মিনিট সমভাবে ভ্রমণের আগে ইচ্ছার ক্রিয়া ছিল। এই ইচ্ছাই ভ্রমণের আবেগ দিয়েছিল। সুতরাং মানুষ বলে যে সে স্বাধীন, কারণ তার সব কর্মই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করা যায়; এবং যদিও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে সঙ্গতি বা মিল রয়েছে, অংশের বাইরে সে-সঙ্গতি নেই। এই অসঙ্গতির অনুভূতির মধ্যেই মুক্তি বা স্বাধীনতা ভাব নিহিত। প্রকৃতিতে আমরা কেবল সঙ্গতির বৃহত্তর খন্ডগুলি দেখতে পাই; কিন্তু আদি ও অন্ত অবশ্যই স্বাধীন আবেগ। প্রথমেই মুক্তির প্রেরণা প্রদত্ত হয়েছিল, তাই বয়ে চলেছে; কিন্তু আমাদের কার্যকালের তুলনায় প্রকৃতির কার্যকাল দীর্ঘতর। দার্শনিক যুক্তিদ্বারা বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারি, আমরা স্বাধীন বা মুক্ত নই। তবু এই চেতনা থেকে যায় যে, আমি মুক্ত। এই চেতনা কিভাবে আসে, তাই আমাদের ব্যাখ্যা করতে হবে। ক্রমশঃ আমরা দেখতে পাব, আমাদের মধ্যে এই দুইটি প্রেরণা আছে। আমাদের যুক্তি বলে, সব কাজেরই কারণ আছে, সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক প্রেরণাদ্বারা আমরা আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। বেদান্তের মীমাংসা এই-মুক্তি বা স্বাধীনতা ভিতরেই আছে, আত্মা যথার্থই মুক্ত; কিন্তু জীবাত্মার কর্ম শরীর-মনের ভিতর দিয়ে পরিস্রুত হয়ে আসছে; এই শরীর ও মন স্বাধীন বা মুক্ত নয়।

যখনই আমরা কোন ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া করি, তখনই আমরা তার দাস হয়ে পড়ি। কেউ আমার নিন্দা করল, তখনি ক্রোধের আকারে আমি প্রতিক্রিয়া করলাম। ঐ ব্যক্তি যে সামান্য স্পন্দন সৃষ্টি করল, তাতেই আমি ক্রীতদাসে পরিণত হলাম। অতএব আমাদের মুক্ত-স্বভাব প্রদর্শন করতে হবে। শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, নিকৃষ্ট জন্তু বা অতি দুরাচার ব্যক্তির মধ্যে যাঁরা মুনি জন্তু বা মানুষ দেখেন না, দেখেন সেই এক ঈশ্বরকে, তাঁরাই প্রকৃত জ্ঞানী। ইহজীবনেই তাঁরা আপেক্ষিক নানা-দর্শন জয় করে এই একত্ব বা সমদর্শনের উপর দৃঢ়প্রতিষ্ঠ হয়েছেন। ঈশ্বর শুদ্ধস্বরূপ, সকলের প্রতি সমভাবাপন্ন। যে জ্ঞানী পুরুষ এইরূপ অনুভব করেন, তিনি তো জীবন্ত ঈশ্বর। এই লক্ষ্যের দিকেই আমরা চলেছি, প্রত্যেক উপাসনা-পদ্ধতি, মানবজাতির প্রত্যেক কর্ম এই উদ্দেশ্য লাভ করবারই প্রচেষ্টা। যে অর্থ চায়, সে মুক্তির জন্যই চেষ্টা করছে-দারিদ্র্যের বন্ধন থেকে নিষ্কৃতি পাবার চেষ্টা করছে।মানুষের প্রত্যেক কাজই উপাসনা, কারণ মুক্তিলাভ করাই তার



Foot Note: