Chapter (অধ্যায়): হিন্দুধর্ম পৃষ্ঠা ১৭Page: 17 of 320


বেদ শিক্ষা দেন আত্মা ব্রক্ষ্মস্বরূপ, কেবল জড় পঞ্চভূতে বদ্ধ হয়ে আছেন; এই বন্ধনের শৃঙ্খল চূর্ণ হলেই আত্মা পূর্ণত্ব উপলব্ধি করেন। অতএব এই পরিত্রাণের অবস্থা বোঝাবার জন্য ঋষিদের ব্যবহৃত শব্দ ‘মুক্তি’! মুক্তি, মুক্তি-অপূর্ণতা থেকে মুক্তি-মৃত্যু ও দুঃখ থেকে মুক্তি।

ঈশ্বরের কৃপা হলেই এই বন্ধন ঘুচে যেতে পারে এবং পবিত্র-হৃদয় মানুষের উপরই তাঁর কৃপা হয়। অতএব পবিত্রতাই তাঁর কৃপালাভের উপায়। কিভাবে তাঁর করুণা কাজ করে? শুদ্ধ বা পবিত্র হৃদয়েই তিনি নিজেকে প্রকাশিত করেন। নির্মল বিশুদ্ধ মানুষ এইজীবনেই ঈশ্বরের দর্শনলাভ করেন। ‘তখনই-কেবল তখনই হৃদয়ের সকল কুটিলতা সরল হয়ে যায়, সকল সন্দেহ দূর হয়।’ মানুষ তখন আর ভয়ঙ্কর কার্যকারণ নিয়মেরখেলার গুটি নয়। এটাই হিন্দুধর্মের মর্মস্থল, এটাই হিন্দুধর্মের প্রাণস্বরূপ। হিন্দু কেবল মতবাদ ও শাস্ত্রবিচার নিয়ে থাকতে চায় না; সাধারণ ইন্দ্রিয়ানুভূতির পারে যদি অতীন্দ্রিয় সত্তা কিছু থাকে, হিন্দু সাক্ষাৎভাবে তার সন্মুখীন হতে চায়। যদি তার মধ্যে আত্মা বলে কিছু থাকে, যা আদৌ জড় নয়,-যদি করুণাময় বিশ্বব্যাপী পরমাত্মা থাকেন, হিন্দু সোজা তাঁরকাছে যাবে, অবশ্যই তাঁকে দর্শন করবে। তবেই তার সকল সন্দেহ দূর হবে। অতএব আত্মা ও ঈশ্বর সম্বন্ধে সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ দিতে গিয়ে জ্ঞানী হিন্দু বলেন, ‘আমি আত্মাকে দর্শন করেছি, ঈশ্বরকে দর্শন করেছি।’ সিদ্ধি বা পূর্ণত্বের এটাই একমাত্র নিদর্শন। কোন মতবাদ অথবা বদ্ধমূল ধারণায় বিশ্বাস করার চেষ্টাতেই হিন্দুধর্ম নিহিত নয়; অপরোক্ষানুভূতিই সেটার মূলমন্ত্র, শুধু বিশ্বাস করা নয়, আদর্শস্বরূপ হয়ে যাওয়াই-সেটা জীবনে পরিণত করাই ধর্ম।

এখন দেখা যাচ্ছে, ক্রমাগত সংগ্রাম ও সাধনা দ্বারা সিদ্ধিলাভ করা-দিব্যভাবে ভাবান্বিত হয়ে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে যাওয়া ও তাঁর দর্শনলাভ করে সেই ‘স্বর্গস্থ পিতা’র মতো পূর্ণ হওয়াই হিন্দুর ধর্ম।

পূর্ণ হলে মানুষের কি অবস্থা হয়? তিনি অনন্ত আনন্দময় জীবন যাপন করেন। আনন্দের একমাত্র উৎস ঈশ্বরকে লাভ করে তিনি পরমানন্দের অধিকারী হন, এবং ঈশ্বরের সঙ্গে সেই আনন্দ উপভোগ করেন-সকল হিন্দু এ-বিষয়ে একমত। ভারতের সকল সম্প্রদায়ের এটা সাধারণ ধর্ম।

এখন প্রশ্ন উঠছে যে, পূর্ণতাই পরম তত্ত্ব, এবং সেই পরম কখনও দুই বা তিন হতে পারে না, ওটাতে কোন গুণ বা ব্যক্তিত্ব থাকতে পারে না। অতএব যখন আত্মা এই পূর্ণ ও পরম অবস্থায় উপনীত হন ,তখন ব্রহ্মের সঙ্গে এক হয়ে যাবেন এবং একমাত্র ব্রহ্মকেই নিত্য পূর্ণরূপে উপলব্ধি করবেন। তিনিই আত্মার স্বরূপ-নিরপেক্ষ সত্তা, নিরপেক্ষ জ্ঞান, নিরপেক্ষ আনন্দ-সৎ-চিৎ-আনন্দ-স্বরূপ। আমরা প্রায়ই পড়ে থাকি, আত্মার এই অবস্থা-ব্যক্তিত্বের লয়-কাঠ পাথরের



Foot Note: