Chapter (অধ্যায়): অবতরণিকা পৃষ্ঠা ১৭৪Page: 174 of 320
যোগী এমন সূক্ষ্ম অনুভূতির অবস্থা লাভ করতে চান, যাতে তিনি বিভিন্ন মানসিক অবস্থাগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারেন। এই ধরনের মানসিক অনুভূতি অবশ্যই সম্ভব। বিষয়সমূহ থেকে বহিরিন্দ্রিয়ে যে সংবেদন উৎপন্ন হয়,তা কিরূপে স্নায়ুপথে পরিচালিত হয়, মন কিভাবে সেগুলিকে গ্রহণ করে, কি করে তারা আবার ‘নিশ্চয়াত্মিকা’ বুদ্ধিতে গমন করে, পরিশেষে কি করেই বা পুরুষ তথা আত্মার কাছে যায়-এই সমগ্র ব্যাপারগুলো অনুভব করা সম্ভব । সকল বিষয়-শিক্ষারই কতকগুলি নির্দিষ্ট প্রণালী আছে । প্রত্যেক বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য কিন্তু প্রাথমিক প্রস্তুতি প্রয়োজন ।তার জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, তবে সেই বিজ্ঞান বিষয়কে বুঝতে পারবে; রাজযোগ সম্বন্ধেও সেইরকম।
খাবার সম্বন্ধে কতকগুলো নিয়ম দরকার। যাতে মন খুব পবিত্র থাকে, এই ধরনের আহার করতে হবে। কোন পশুশালার ভিতরে গিয়ে দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারা যায় খাদ্যের সঙ্গে শরীরের কী সম্বন্ধ! হাতি অতি বিরাটাকার জন্তু, কিন্তু তার প্রকৃতি অতি শান্ত; আর সিংহ বা বাঘের খাঁচার দিকে গিয়ে দেখবে-তারা অস্থির, চঞ্চল। এর থেকেই বোঝা যায় যে, খাবারের তারতম্যে কি ভয়ানক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। আমাদের শরীরে যতগুলি শক্তি সবসময় কাজ করছে, সবগুলোই খাবার থেকে উৎপন্ন, এই ঘটনা আমরা প্রতিদিনই দেখতে পাই। যদি উপবাস করতে আরম্ভ কর, প্রথমতঃ তোমার শরীর দুর্বল হয়ে যাবে, দৈহিক শক্তিগুলি হ্রাস পাবে, কয়েকদিন পরে মানসিক শক্তিগুলিও হ্রাস পেতে থাকবে। তারপর স্মৃতিশক্তি চলে যাবে, পরে এমন এক সময় আসবে, যখন তুমি চিন্তা করতেও সমর্থ হবে না, যুক্তিবিচার করা তো দূরের কথা। সেইজন্য সাধনার প্রথমাবস্থায় খাদ্য সম্বন্ধে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে, পরে যখন আমাদের যথেষ্ট শক্তি সঞ্চিত হয়েছে, যখন আমরা সাধনায় বেশ অগ্রসর হয়েছি, তখন ঐ বিষয়ে আর তত সাবধানতার প্রয়োজন নেই। চারা গাছ যতদিন বাড়তে থাকে, ততদিন তাকে বেড়া দিয়ে রাখতে হয়, পাছে কেউ তার ক্ষতি করে; গাছ বড় হয়ে গেলে বেড়া সরিতে নিতে হয়, তখন সমস্ত রকম আক্রমণ অত্যাচার প্রতিরোধ করবার মতো যথেষ্ট শক্তি তার হয়েছে।
যোগী অতিরিক্ত বিলাস ও কঠোরতা-দুই-ই পরিত্যাগ করবেন। তাঁর উপবাস করা অথবা শরীরকে অত্যধিক কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। গীতিকার বলেন,যিনি নিজেকে অনর্থক কষ্ট দেন তিনি কখনও যোগী হতে পারেন না। অতিভোজনকারী, একান্ত উপবাসী, অধিক জাগরণশীল, অধিক নিদ্রালু, অতিরিক্ত কর্মপরায়ন, অথবা একেবারে নিষ্কর্মা- এদের মধ্যে কেউই যোগী হতে পারে না।১
১। নাত্যশ্নতস্তু যোগোহস্তি ন চৈকান্তমনশ্নতঃ।
ন চাতিস্বপ্নশীলস্য জাগ্রতো নৈব চার্জুন।।
যুক্তাহারবিহারস্য যুক্তচেষ্টস্য কর্মসু।
যুক্তস্বপ্নাববোধস্য যোগো ভবতি দুঃখহা।।-
গীতা,৬।১৬-১৭

