Chapter (অধ্যায়): হিন্দুধর্ম পৃষ্ঠা ১৮Page: 18 of 320
মতো জড়াবস্থা; এটাতে লেখকদের অনভিজ্ঞতাই প্রকাশ পায়, কারণ যিনি কখনও আঘাতের বেদনা বোধ করেন নি, তিনি অপরের ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে পরিহাস করেন ।
আমি বলেছি, এই অবস্থা ঐরূপ কিছু নয়। এই ক্ষুদ্র দেহের চেতনা উপভোগ যদি সুখের হয়, তবে দুইটি দেহের চেতনা উপভোগ আরও বেশী সুখের হবে। এইরূপে দেহসংখ্যা যতই বাড়বে, আমার সুখও ততই বাড়বে। এইরূপে যখন এই নিখিল বিশ্বে আমার আত্মবোধ হবে, তখনই আমি আনন্দের পরাকাষ্ঠায়-লক্ষ্যে উপনীত হব।
অতএব এই অনন্ত বিশ্বজনীন ব্যক্তিত্ব লাভ করতে গেলে এই দুঃখপূর্ণ ক্ষুদ্র দেহাবদ্ধ ব্যক্তিত্ব অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে। যখন আমি প্রাণস্বরূপ হয়ে যাবো, তখনই মৃত্যু থেকে নিষ্কৃতি পাবো; যখন আনন্দস্বরূপ হয়ে যাবো, তখনই দুঃখ থেকে নিষ্কৃতি পাবো; যখন জ্ঞানস্বরূপ হয়ে যাবো, তখনই ভ্রমের নিবৃত্তি। এটাই যুক্তিসঙ্গত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। বিজ্ঞানের প্রমাণে জেনেছি-দেহগত ব্যক্তিত্ব ভ্রান্তিমাত্র। প্রকৃতপক্ষে আমার শরীর এই নিরবচ্ছিন্ন জড়সমুদ্রে অবিরাম পরিবর্তিত হচ্ছে; সুতরাং আমার চৈতন্যাংশ সম্বন্ধে এই অদ্বৈত (একত্ব)-জ্ঞানেই কেবল যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত।
একত্বের আবিষ্কার ব্যতীত বিজ্ঞান আর কিছুই নয়; এবং যখনই কোন বিজ্ঞান সেই পূর্ণ একত্বে উপনীত হয়, তখন তার অগ্রগতি থেমে যাবেই, কারণ ঐ বিজ্ঞান তার লক্ষ্যে উপনীত হয়েছে। যথা-রসায়নশাস্ত্র যদি এমন একটি মূল পদার্থ আবিষ্কার করে, যা থেকে অন্যান্য সকল পদার্থ প্রস্তুত করা যেতে পারে, তা হলে সেটা চরম উন্নতি লাভ করল। পদার্থবিদ্যা যদি এমন একটি শক্তি আবিষ্কার করতে পারে, অন্যান্য শক্তি যার রূপান্তর মাত্র, তা হলে ঐ বিজ্ঞানের কার্য শেষ হল। ধর্মবিজ্ঞানও তখনই পূর্ণতা লাভ করেছে,যখন তাঁকে আবিষ্কার করেছে, যিনি এই মৃত্যুময় জগতে একমাত্র জীবনস্বরূপ, যিনি নিত্যপরিবর্তনশীল জগতের একমাত্র অচল অটল ভিত্তি, যিনি একমাত্র পরমাত্মা-অন্যান্য আত্মা যার ভ্রমাত্মক প্রকাশ। এইরূপে বহুবাদ, দ্বৈতবাদ প্রভৃতির ভিতর দিয়ে শেষে অদ্বৈতবাদে উপনীত হলে ধর্মবিজ্ঞান আর অগ্রসর হতে পারে না। এটাই সর্বপ্রকার জ্ঞান বা বিজ্ঞানের চরম লক্ষ্য।
সকল বিজ্ঞানকেই অবশেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। আজকাল বৈজ্ঞানিকগণ ‘সৃষ্টি না বলে ‘বিকাশ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। হিন্দু যুগ যুগ ধরে যে-ভাব হৃদয়ে পোষণ করে এসেছে, সেই ভাব আধুনিক বিজ্ঞানের সিদ্ধান্তের নূতনতর আলোকে আরও জোরালো ভাষায় প্রচারিত হবার উপক্রম দেখে তার হৃদয়ে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে।
এখন দর্শনের উচ্চ শিখর হতে অবরোহণ করে অজ্ঞলোকদের ধর্ম সম্বন্ধে আলোচনা করি। প্রথমেই বলে রাখি যে, ভারতবর্ষে বহু-ঈশ্বরবাদ নেই।প্রতি

