Chapter (অধ্যায়): প্রত্যাহার ও ধারণা পৃষ্ঠা ২০৬Page: 206 of 320
করে। তারা ইঙ্গিত (suggestion)-এর মাধ্যমে সাময়িকভাবে রোগীর ভিতরে একরকম অস্বাভাবিক প্রত্যাহারের ভাব নিয়ে আসে। তথাকথিত বশীকরণ-ইঙ্গিত শুধু দুর্বল মনেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে। বশীকরণকারী যতক্ষণ না স্থিরদৃষ্টি অথবা অন্য কোন উপায়ে তার বশ্য-ব্যক্তির মন নিষ্ক্রিয় ও অস্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, ততক্ষণ তার ইঙ্গিত বা আদেশে কোন কাজ হয় না।
বশীকরণকারীরা বা বিশ্বাস-বলে আরোগ্যকারীরা যে কিছুক্ষণের জন্য তাদের বশ্য-ব্যক্তির শরীরে অবস্থিত শক্তিকেন্দ্রগুলি বশীভূত করে থাকে। কিন্তু তা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ , কারণ এই প্রক্রিয়া বশ্য-ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত সর্বনাশের পথে নিয়ে যায়। এই কাজ তো নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে মস্তিষ্ক-স্থিত কেন্দ্রগুলির নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, অন্যের ইচ্ছাশক্তির আকস্মিক আঘাতে বশ্য-ব্যক্তির মনকে কিছুক্ষণের জন্য যেন হতবুদ্ধি করে রাখা। এ যেন লাগাম ও পেশী-শক্তির সাহায্যে উচ্ছৃঙ্খল ঘোড়ার দলের উন্মত্ত গতিকে সংযত করা নয়, বরং অন্য কাউকে সেই ঘোড়ার পালের উপর তীব্র আঘাত করতে বলে তাদের কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত করে শান্ত করে রাখা। এই-সব প্রক্রিয়ার প্রত্যেকটির মাধ্যমে বশ্য-ব্যক্তি তার মনের শক্তি কিছু কিছু করে হারাতে থাকে, পরিশেষে তাদের মন নিজেকে সম্পূর্ণ আয়ত্তে আনা দূরে থাক, ক্রমশঃ এক ধরনের শক্তিহীন কিম্ভূতকিমাকার জড়ে পরিণত হয়, এবং বাতুলালয়ই তার একমাত্র গন্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।
স্বেচ্ছাকৃত চেষ্টার পরিবর্তে মনকে অন্য উপায়ে বশে আনবার চেষ্টা করলে যে শুধুমাত্র অনিষ্ট হয়, তা নয়, এতে উদ্দেশ্যও সিদ্ধ হয় না। প্রত্যেক জীবাত্মারই চরম লক্ষ্য মুক্তি বা প্রভুত্ব -জড়বস্তু ও চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, বাহ্য ও অন্তঃপ্রকৃতির উপর প্রভুত্ব। কিন্তু সেই লক্ষ্যে না পৌঁছে , অন্য কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি-প্রবাহ, তা যেভাবেই প্রযুক্ত হোক না কেন -সাক্ষাৎভাবে ইন্দ্রিয়গুলি বশীভূত করে বা অস্বাভাবিকভাবে জোর করে ইন্দ্রিয়গুলি সংযত করেই হোক – আগে থেকে বিদ্যমান চিন্তা ও কুসংস্কারগুলির গুরুভার শৃঙ্খলের উপর তা যেন আর একটা নতুন শৃঙ্খল রচনা করে দেয়। অতএব সাবধান, যখন অন্য কাউকে তোমার উপর যথেচ্ছ শক্তি প্রয়োগ করতে দাও। তখনও সাবধান, যখন অন্য কারোর উপর এইরূপ ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে অজ্ঞাতসারে তার সর্বনাশ কর। একথা সত্য বটে যে, কেউ কেউ অনেকের প্রবৃত্তির মোড় ফিরিয়ে দিয়ে কিছুদিনের জন্য তাদের কল্যাণসাধনের ক্ষেত্রে সফল হন, কিন্তু আবার চারদিকে অজ্ঞাতসারে এইসব ইঙ্গিত (suggestion)-শক্তি প্রয়োগ করে লক্ষ লক্ষ নরনারীর মধ্যে একরকম বিকৃত, নিষ্ক্রিয় ও মোহের ভাব জাগিয়ে তোলেন, পরিণামে সেই নরনারীরা আত্মার অস্তিত্ব পর্যন্ত যেন ভুলে যায়। অতএব যে-কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে বলে, অথবা নিজের উচ্চতর ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণ-শক্তির মাধ্যমে বহু লোককে তার অনুসরণ করতে বাধ্য করে, সে ইচ্ছা না করলেও মনুষ্যজাতির অনিষ্ট করে থাকে।
অতএব নিজের শরীর ও মন সংযত করতে সব সময় নিজের মনেরই সহায়তা নেবে,

