Chapter (অধ্যায়): উপক্রমণিকা পৃষ্ঠা ২৩১Page: 231 of 320


বেশি কিছু প্রার্থনা করার না থাকে, তাহলে এই পঞ্চেন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগৎই আমাদের জ্ঞানের চরম সীমা হয়ে থাকবে। একেই অজ্ঞেয়বাদ বলা হয়। ইন্দ্রিয়ের সাক্ষ্যে বিশ্বাস করতেই হবে, এমন কী যুক্তি আছে? আমি তাঁকেই যথার্থ অজ্ঞেয়বাদী বলিব, যিনি পথে চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে মরতে পারেন। যদি যুক্তিই আমাদের সর্বস্ব হয়, তবে শূন্যবাদের পক্ষ অবলম্বন করে আমরা কোথাও দাঁড়াতে পারি না। কেবল অর্থ, যশ, নামের আকাঙ্ক্ষা ছাড়া অন্য সব বিষযে যদি কেউ নাস্তিক হয়, তবে সে একজন জুয়াচোর মাত্র। কান্ট (Kant) নিঃসংশয়ে প্রমাণ করেছেন যে, আমরা যুক্তি-রূপ বিরাট পাষাণ-প্রাচীর ভেদ করে তা অতিক্রম করতে পারি না। কিন্তু ভারতীয় দার্শনিকদের প্রথম কথা : আমরা যুক্তিকে অতিক্রম করতে পারি। যোগীরা অতি সাহসের সঙ্গে অন্বেষণে প্রবৃত্ত হন এবং এমন এক বস্তু লাভ করতে সমর্থ হন, যা যুক্তির ঊর্ধ্বে, সেখানেই আমাদের বর্তমান অবস্থার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। যা আমাদের জগতের বাইরে নিয়ে যায়, এমন বিষয় শিক্ষা করবার এটাই হল ফল। 'তুমি আমাদের পিতা, তুমি আমাদের অজ্ঞানের পরপারে নিয়ে যাবে।'১ এটাই ধর্মবিজ্ঞান, অন্য কিছু নয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



Foot Note:

১ 'ত্বং হি নঃ পিতা, যোহস্মাকমবিদ্যায়াঃ পারং পারং তারয়সীতি'-প্রশ্নোপনিষদ্, ৬।৮