Chapter (অধ্যায়): কৈবল্য-পাদ পৃষ্ঠা ৩০৯Page: 309 of 320


থেকে বাইরে না গিয়ে আমরা এখানেই এবং এখনই সেই গঠনের কাজ করতে পারব না কেন? তত্ত্বের দিক দিয়া একথা সম্পূর্ণ সত্য। এটা যদি সম্ভব হয় যে, আমরা মৃত্যুর পরও (কোনও একভাবে) জীবিত থাকি এবং নিজ নিজ শরীর গঠন করি, তবে শরীরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে শুধু তাকে ক্রমশ পরিবর্তিত করে এই পৃথিবীতে (নতুনতর) শরীর গঠন করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হবে কেন? তাঁদের আরও বিশ্বাস ছিল যে, পারদে ও গন্ধকে অতি অদ্ভুত শক্তি লুকিয়ে আছে। এই দ্রব্যগুলি থেকে প্রস্তুত কোনও বিশেষ 'রসায়ন' দ্বারা মানুষ যতদিন ইচ্ছা শরীরকে অবিকৃত রাখতে পারে। অন্য কেউ বিশ্বাস করত যে, বিশেষ ওষুধের সেবনে আকাশে গমন করার মতো সিদ্ধিলাভ হতে পারে। আজকালকার অধিকাংশ আশ্চর্য ওষুধই, বিশেষত ওষুধে ধাতুর ব্যবহার, আমরা এই রসায়নবিদ্যা থেকে পেয়েছি। কোনও কোনও যোগিসম্প্রদায় দাবি করেন, তাঁদের প্রধান প্রধান গুরুরা অনেকে এখনও তাঁদের পুরোনো শরীরেই বিদ্যমান আছেন। যোগসম্বন্ধে শ্রেষ্ঠ প্রমাণস্বরূপ (যাঁর প্রামাণ্য অকাট্য, সেই) পতঞ্জলিও তা অস্বীকার করেন না।

মন্ত্রশক্তি- মন্ত্র নামক কতকগুলি পবিত্র শব্দ আছে; নির্দিষ্ট নিয়মে উচ্চারণ করলে এগুলি থেকে আশ্চর্য শক্তিলাভ হয়ে থাকে। আমরা দিনরাত অদ্ভুত ঘটনারাশির মধ্যে বাস করি, সেগুলির বিষয়ে কিছু চিন্তাও করি না। মানুষের শক্তি, শব্দের শক্তি ও মনের শক্তির কোনও সীমা নেই।

তপস্যা-  তোমরা দেখবে, প্রত্যেক ধর্মেই তপস্যা ও কৃচ্ছ্রসাধন আছে। ধর্মের এই দিকটিতে হিন্দুরাই সবসময় চরম সীমায় গিয়ে থাকেন। দেখবে- এমন অনেকে আছে, যারা সারা জীবন উপরদিকে হাত তুলে রাখে, যে পর্যন্ত না তা শুকিয়ে অবশ হয়ে যায়। অনেকে দিনরাত দাঁড়িয়ে থাকে, অবশেষে তাদের পা ফুলে যায়; যদি তারপরও তারা জীবিত থাকে, তাহলে সেই অবস্থায় তাদের পা এত শক্ত হয়ে যায় যে, তারা আর পা মুড়তে পারে না। বাকী জীবন তাদের দাঁড়িয়েই থাকতে হয়। আমি একবার এক উর্ধ্ববাহু পুরুষকে দেখেছিলাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'যখন প্রথম প্রথম এই অভ্যাস করতেন, তখন কিরকম বোধ করতেন?' তিনি বললেন 'প্রথম প্রথম ভয়ানক যন্ত্রণা বোধ হতো। এত যন্ত্রণা হতো যে নদীতে গিয়ে জলে ডুব দিয়ে থাকতাম; তাতে কিছুক্ষণের জন্য যন্ত্রণার কিছুটা উপশম হতো। একমাস পরে আর বিশেষ কষ্ট ছিলো না।' এইরকম অভ্যাসের দ্বারা সিদ্ধি বা বিভূতি লাভ হয়ে থাকে।

সমাধি- মনের সম্পূর্ণ একাগ্রতা, সেটাই প্রকৃত যোগ; এই বিজ্ঞানের এটাই প্রধান আলোচ্য বিষয়; আর এ-ই শ্রেষ্ঠ উপায়। আগে আলোচিত বিষয়গুলি গৌণ। সেগুলির দ্বারা উচ্চতম অবস্থা লাভ করা যায় না। সমাধির দ্বারাই মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক যা কিছু, সবই আমরা লাভ করতে পারি।



Foot Note: