Chapter (অধ্যায়): কৈবল্য-পাদ পৃষ্ঠা ৩১০Page: 310 of 320
জাত্যন্তর-পরিণামঃ প্রকৃত্যাপূরাৎ ।।২।।
-প্রকৃতির আপূরণের দ্বারা এক জাতি আর এক জাতিতে পরিণত হয়ে যায়।
পতঞ্জলি বলেছেন, এই প্রস্তাবে উপস্থাপিত শক্তিগুলি কখনও জন্ম দ্বারা,কখনও রাসায়নিক ঔষধ দ্বারা অথবা তপস্যা দ্বারা লাভ করতে পারা যায়। তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে, এই শরীরকে যতদিন ইচ্ছা রক্ষা করা যেতে পারে। এখন তিনি বলছেন,এই শরীর একজাতি থেকে অন্য জাতিতে পরিণত হয় কেন? তাঁর মতে- এটা প্রকৃতির আপূরণের দ্বারা সম্ভব হয়ে থাকে। পরবর্তী সূত্রে তিনি বিষয়টি বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
নিমিত্তমপ্রয়োজকং প্রকৃতীনাং বরণভেদস্তু ততঃ ক্ষেত্রিকবৎ ।।৩।।
-সৎ ও অসৎ কর্ম প্রকৃতির পরিণামের প্রত্যক্ষ কারণ নয়,সেগুলি তার বাধাভগ্নকারী নিমিত্তমাত্র- যেমন কৃষক জলের গতিপথে তৈরি করা বাঁধ ভেঙে দিলে জল নিজের স্বভাব অনুসারেই প্রবাহিত হয়।
যখন কোনও কৃষক ক্ষেত্রে জল সেচন করার কথা ভাবে, তখন তার আর অন্য কোনও স্থান থেকে জল আনার দরকার হয় না, খেতের কাছেই অবস্থিত জলাশয়ে জল সঞ্চিত রয়েছে, শুধু মধ্যে যেন এক দরজার দ্বারা ওই জল রুদ্ধ আছে। কৃষক সেই দরজা খুলে দেয় এবং জল স্বভাবতই মাধ্যাকর্ষণের নিয়মানুসারে চাষের খেতের দিকে প্রবাহিত হয়। এইভাবে সবরকম উন্নতি ও শক্তি আগে থেকেই প্রত্যেকের ভেতরে রয়েছে। পূর্ণতা মানুষের অন্তর্নিহিত ভাব; কেবল তার দরজা বন্ধ আছে, প্রবাহিত হওয়ার প্রকৃত পথ পাচ্ছে না। যদি কেউ ওই বাধা সরিয়ে দিতে পারে, তবে প্রকৃতিগত শক্তি খুব জোরের সঙ্গে প্রবাহিত হবে;আর তখনই মানুষ তার নিজস্ব শক্তিগুলি লাভ করতে পারবে। এইভাবে বাধাগুলি দূর হলে এবং প্রকৃতির শক্তি অপ্রতিহতভাবে ভেতরে প্রবেশ করলে আমরা যে ব্যক্তিদের দুষ্ট বা অসাধু বলি, তারাও সাধু হয়ে যায়। স্বভাব বা প্রকৃতিই আমাদের পূর্ণতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, একসময় এই প্রকৃতি সকলকেই সেই অবস্থায় নিয়ে যাবে। ধার্মিক হওয়ার জন্য যা কিছু সাধন ও চেষ্টা, তা কেবল নিষেধমুখ দূরীকরণের কাজমাত্র- শুধুই বাধাগুলি সরিয়ে দেওয়া, জন্মগত অধিকারস্বরূপ পূর্ণতালাভের দরজা খুলে দেওয়া-পূর্ণতাই আমাদের প্রকৃত স্বভাব।
প্রাচীন যোগীদের পরিণামবাদ আধুনিক গবেষণার আলোয় আরো সহজে ও ভালোভাবে বুঝতে পারা যাবে এবং যোগীদের ব্যাখ্যা আধুনিক ব্যাখ্যার থেকে অনেক ভালো। আধুনিকরা বলেন, পরিণামের দুটি কারণ- যৌন নির্বাচন (sexual selection) ও যোগ্যতমের উজ্জীবন (survival of the fittest)।১ কিন্তু এই
১ ডারউইন ও তার পরবর্তী বৈজ্ঞানিকদের মত হল, প্রাণীদের শরীর পরিবর্তনের কারণ নিজ নিজ যৌন সঙ্গী নির্বাচনের ইচ্ছা; এই জীবন সংগ্রামে যারা যোগ্যতম, তারাই শেষ পর্যন্ত বেঁচে যায় ও অন্যরা ধ্বংস হয়।

