Chapter (অধ্যায়): কর্মরহস্য পৃষ্ঠা ৫৯Page: 59 of 320


কর্মরহস্য

শরীরগত অভাব পূরণ করে অপরকে সাহায্য করা মহৎ কর্ম বটে, কিন্তু অভাব যত বেশি এবং সাহায্য যত সুদূরপ্রসারী, উপকারও তত মহত্তর। যদি এক ঘন্টার জন্য কোন ব্যক্তির অভাব দূর করতে পারা যায়, অবশ্যই তার উপকার করা হল; যদি এক বছরের জন্য তার অভাব দূর করতে পারা যায়, তবে তা অধিকতর উপকার; আর যদি চিরকালের জন্য অভাব দূর করতে পারা যায়, তবে তাই মানুষের শ্রেষ্ঠ উপকার। একমাত্র অধ্যাত্মজ্ঞানই আমাদের সব দুঃখ চিরকালের জন্য দূর করতে পারে; অন্যান্য জ্ঞান অতি অল্প সময়ের জন্য অভাব পূরণ করে মাত্র। কেবল আত্মবি়ষয়ক জ্ঞান দ্বারাই অভাব-বৃত্তি চিরতরে বিনষ্ট হতে পারে; অতএব আধ্যাত্মিক সাহায্য করাই মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্য করা। মানুষকে যিনি পরমার্থ-জ্ঞান প্রদান করতে পারেন, তিনিই মানুষের শ্রেষ্ঠ উপকারক। আমরা দেখতেও পাই, মানুষের আধ্যাত্মিক অভাব পূরণ করবার জন্য যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁরাই সর্বাপেক্ষা শক্তিমান পুরুষ; কারণ আধ্যাত্মিকতাই আমাদের জীবনে সকল কর্মপ্রচেষ্টার প্রকৃত ভিত্তি। আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে যিনি সুস্থ ও সবল, ইচ্ছা করলে তিনি অন্যান্য বিষয়েও দক্ষ হতে পারেন। ভিতরে আধ্যাত্মিক শক্তি না জাগা পর্যন্ত মানুষের শারীরিক অভাবগুলিও ঠিক ঠিক পূর্ণ হয় না। আধ্যাত্মিক উপকারের পরই হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তির উন্নতি-বিষয়ে সাহায্য। অন্ন-বস্ত্রদান অপেক্ষা জ্ঞানদান উচ্চতর-প্রাণদান অপেক্ষাও সেটা মহৎ, কারণ জ্ঞানই মানুষের প্রকৃত জীবন। অজ্ঞান মৃত্যুতুল্য, জ্ঞানই জীবন। জীবন যদি অন্ধকারে কাটাতে হয়-অজ্ঞান ও দুঃখের মধ্যে দিয়ে চলাই যদি জীবন হয়, তবে জীবনের কোন মূল্যই নেই। এটার পর অবশ্য শারীরিক অভাব পূরণে সাহায্য করার স্থান। অতএব অপরকে স্যহায্য করার বিষয় বিচার করবার সময় আমরা যেন এই ভ্রমে না পড়ি যে, শারীরিক সাহায্যই একমাত্র সাহায্য। শারীরিক সাহায্যের স্থান শুধু সর্বশেষে নয়-সর্বনিম্নও, কারণ এটা স্থায়ী তৃপ্তি দিতে পারে না। ক্ষুধার্ত হলে যে কষ্ট পাই, খেলেই তা চলে যায়; কিন্তু ক্ষুধা আবার ফিরে আসে। দুঃখ তখনই নিবৃত্ত হবে, যখন আমার সর্ববিধ অভাব দূর হবে। তখন ক্ষুধা আমাকে কষ্ট দিতে পারবে না, কোনরূপ দুঃখ বা যন্ত্রণা আমাকে বিচলিত করতে পারবে না। অতএব যা আমাদেরকে আধ্যাত্মিক-বলসম্পন্ন করে, তাই সর্বশ্রেষ্ঠ উপকার; তার পর মানসিক উপকার, তার পর শারীরিক।

কেবল শারীরিক সাহায্য দ্বারা জগতের দুঃখ দূর করা যায় না। যতদিন না মানুষের প্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে, ততদিন এই শারীরিক অভাবগুলি সর্বদাই আসবে এবং দুঃখ অনুভূত হবেই হবে। যতই শারীরিক সাহায্য কর না কেন, কোনমতেই দুঃখ একেবারে দূর হবে না। জগতের এই দুঃখ-সমস্যার একমাত্র সমাধান



Foot Note: