Chapter (অধ্যায়): কর্তব্য কি? পৃষ্ঠা ৭১Page: 71 of 320


তা হলেও কর্তব্যজ্ঞানে কৃত কাজই আমাদের কর্তব্যজ্ঞানের অতীত কাজে নিয়ে যায়; তখন কাজ উপাসনায় পরিণত হয়, শুধু তাই নয়, তখন কেবল কাজের জন্যই কাজ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এটা আদর্শমাত্র, সেটা লাভ করবার উপায় এই ‘কর্তব্য’। আমরা দেখব, কর্তব্যের তত্ত্ব-নীতি বা প্রেম-যে-কোন রূপেই প্রকাশিত হক না কেন, তা অন্যান্য যোগের মতোই; সেটার উদ্দেশ্য-‘কাঁচা আমি কে ক্রমশ সূক্ষ্ম করা, যাতে ‘পাকা আমি’ নিজ মহিমায় শোভা পেতে পারেন; সেটার উদ্দেশ্য-নিম্নস্তরের শক্তিক্ষয় নিবারণ করা, যাতে আত্মা উচ্চতর ভূমিতে নিজেকে প্রকাশ করতে পারেন। নীচ বাসনাগুলিকে ক্রমাগত ত্যাগ বা অস্বীকার করলেই আত্মার মহিমা প্রকাশিত হয়। কর্তব্য কর্ম করতে গেলে অতি কঠোরভাবে এই ত্যাগ আবশ্যক হয়। এইরূপেই জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে সমগ্র সমাজ-সংহতি গড়ে উঠেছে। এই কর্ম ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে স্বার্থপূর্ণ বাসনা কমাতে কমাতে আমরা মানুষের প্রকৃত স্বরূপের অনন্ত বিস্তৃতির পথ খুলে দিই। ভিতরের দিক থেকে দেখলে কর্তব্যের এই একটি নিশ্চিত নিয়ম পাওয়া যায় যে, স্বার্থপরতা ও ইন্দ্রিয়পরতা থেকে পাপ ও অসাধুতার উদ্ভব, আর নিঃস্বার্থ প্রেম ও আত্মসংযম থেকে ধর্মের বিকাশ।

কর্তব্য বিশেষ রুচিকর নয়। প্রেম কর্তব্য-চক্রকে স্নেহসিক্ত করলে তবেই সেটা বেশ সহজভাবে চলতে থাকে, নতুবা কর্তব্য ক্রমাগত সংঘর্ষ! অন্যথা কিভাবে পিতামাতা সন্তানের প্রতি, সন্তান পিতামাতার প্রতি, স্বামী স্ত্রীর প্রতি, এবং স্ত্রী স্বামীর প্রতি কর্তব্যপালন করতে পারে? আমরা কি জীবনের প্রতিদিনই সংঘর্ষের সন্মুখীন হচ্ছি না? প্রেমমিশ্রিত হলেই কর্তব্য রুচিকর হয়। প্রেম আবার কেবল স্বাধীনতাতেই দীপ্তি পায়; কিন্তু ইন্দ্রিয়ের দাস,ক্রোধের দাস,ঈর্ষার দাস আরও যে শত শত ছোট ছোট ঘটনা জীবনে প্রত্যহ ঘটবেই, সেইগুলির দাস হওয়াই কি স্বাধীনতা? আমরা জীবনে যে সব ছোটখাট রূঢ় সংঘর্ষের সন্মুখীন হই, ঐগুলি সহ্য করাই স্বাধীনতার সর্বোচ্চ অভিব্যক্তি। নারীগণ নিজেদের ঈর্ষাপূর্ণ খিটখিটে মেজাজের দাস হয়ে স্বামীর উপর দোষারোপ করে এবং মনে করে,তারা যেন নিজেদের স্বাধীনতা প্রকাশ করছে। তারা জানে না যে, এইরূপে তারা নিজেদের দাসী বলেই প্রতিপন্ন করেছে। যে-সকল স্বামী সর্বদাই স্ত্রীর দোষ দেখে, তাদের সম্বন্ধেও এই একই কথা। পবিত্রতা রক্ষা করাই পুরুয় ও স্ত্রীর প্রথম ধর্ম; এমন মানুষ নেই বললেই হয়-তা সে যতদূর বিপথগামীই হক না কেন-যাকে নম্রা প্রেমিকা সতী স্ত্রী সৎপথে ফিরিয়ে আনতে না পারেন। জগৎ এখনও এতটা মন্দ হয় নি। সমগ্র জগতে আমরা নৃশংস পতি এবং পুরুষের অপবিত্রতা সম্বন্ধে অনেক কথা শুনি, কিন্তু এটা কি সত্য নয় যে, নৃশংস ও অপবিত্র নারীর সংখ্যা যত,ঐরূপ পুরুষের সংখ্যাও ঠিক তত? নারীগণ সর্বদা যেরূপ সগর্বে বলেন-এবং তা শুনে লোকেও যেরূপ বিশ্বাস করে-যদি সকল নারী সেইরকম সৎ ও পবিত্র হতেন, তবে আমি নিঃসংশয়ে বলতে পারি, পৃথিবীতে একটিও অপবিত্র পুরুষ থাকত না। এমন পাশব ভাব কি



Foot Note: