Chapter (অধ্যায়): কর্তব্য কি? পৃষ্ঠা ৭৫Page: 75 of 320


কর্তব্যের ভেতর কিছু বড়-ছোট থাকতে পারে না। সকল কর্মীই-তার অদৃষ্টে যে কর্তব্য পড়েছে, তাতে বিরক্তি প্রকাশ করে। অনাসক্ত কর্মীর পক্ষে সকল কর্তব্যই সমান,এবং ঐগুলিই অমোঘ অস্ত্র হয়ে তার স্বার্থপরতা ও ইন্দ্রিয়পরতা বিনষ্ট করে এবং সাধক মুক্তির পথে অগ্রসর হয়। আমরা যে কাজে বিরক্তি প্রকাশ করি, তার কারণ-আমরা সকলেই নিজেদের খুব বড় ভেবে থাকি, কিন্তু আন্তরিকতার সঙ্গে কাজে প্রবৃত্ত হলেই আমরা নিম্ন-অবস্থানির্দিষ্ট অতি ক্ষুদ্র কর্তব্যগুলিও ঠিক ঠিক সম্পাদনে স্বীয় অক্ষমতা বুঝতে পারি এবং তাতে আমরা নিজেদের সম্বন্ধে যে-সকল উচ্চ ধারণা পোষণ করতাম, তা স্বপ্নের ন্যায় অম্তর্হিত হয়ে যায়। যখন আমি ছোট ছেলে ছিলাম, তখন আমার মনে অনেক রকম চিন্তা উঠত-কখন ভাবতাম,আমি একটা মস্তবড় সম্রাট;কখন বা নিজেকে অন্য কোনরূপ একটা বড়লোক ভাবতাম। বোধ হয় তোমরাও ছোটবেলায় এরকম চিন্তা করেছ। কিন্তু এগুলি সবই খেয়ালমাত্র;প্রকৃতিই সর্বদা কঠোরভাবে প্রত্যেকের কাজ অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত ফলবিধান করে থাকে-তার একচুলও এদিক ওদিক হবার নয়। সেইজন্য আমরা স্বীকার করতে ইচ্ছুক না হলেও প্রকৃতপক্ষে আমাদের কর্মফল অনুসারেই আমাদের কর্তব্য নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। আমাদের অতি কাছেই যে কর্তব্য রয়েছে-যা আমাদের হাতের গোড়ায় রয়েছে-তা ভালভাবে নির্বাহ করেই আমরা ক্রমশ শক্তি লাভ করে থাকি। এইভাবে ধীরে ধীরে শক্তি বাড়াতে বাড়াতে ক্রমে আমরা এমন অবস্থায় পৌঁছাতে পারি,যে সময়ে আমরা সমাজে সর্বাপেক্ষা সন্মানজনক কর্তব্য পালন করবার সৌভাগ্য লাভ করব। এইটি জেনে রাখা ভাল,কারণ প্রতিযোগিতা থেকে ঈর্ষার উৎপত্তি হয় এবং সেটা হৃদয়ের সৎ ও কোমল ভাবগুলি নষ্ট করে ফেলে। যে ক্রমাগত সকল বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে,তার পক্ষে সকল কর্তব্যই অরুচিকর বলে বোধ হয়। কিছুই তাকে কখন সন্তুষ্ট করতে পারবে না,এবং তার জীবনটা বিফলতায় পর্যবসিত হবে। এসো,আমরা কেবল কাজ করে যাই। যে-কোন কর্তব্য আসুক না কেন, তা যেন আমরা সাগ্রহে করে যেতে পারি-সর্বদাই যেন কর্তব্য-সম্পাদনের জন্য সর্বান্তঃকরণে প্রস্তুত থাকতে পারি। তবেই আমরা নিশ্চয়ই আলো দেখতে পাবো।

 



Foot Note: