Chapter (অধ্যায়): পরোপকারে নিজেরই উপকার পৃষ্ঠা ৮৪Page: 84 of 320
তাকে টাকাকড়ি ও অন্যান্য আবশ্যক দ্রব্যাদি দিতে থাকে। এইভাবেই জগৎ চলছে, কিন্তু জীবনটা তো এরকম একটা তামাশা নয়; জীবনে গভীরভাবে বোঝা ও আলোচনা করবার বিষয় অনেক আছে।
এখন তোমাদেরকে আজকের বক্তৃতার মুখ্য বিষয়গুলি আবার আলোচনা করতে বলেছি। প্রথমত আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, আমরা সকলেই জগতের কাছে ঋণী; জগৎ আমাদের কাছে এতটুকু ঋণী নয়। আমাদের সকলেরই মহা সৌভাগ্য যে, আমরা জগতের জন্য কিছু করবার সুযোগ পেয়েছি। জগৎকে সাহায্য করতে গিয়ে আমরা প্রকৃতপক্ষে নিজেদেরই কল্যাণ করে থাকি। দ্বিতীয়ত এই জগতে একজন ঈশ্বর আছেন। এটা সত্য নয় যে, এই জগৎ স্রোতে ভেসে চলেছে এবং তোমার বা আমার সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে। ঈশ্বর জগতে সর্বদাই বর্তমান। তিনি অবিনাশী, নিয়ত-ক্রিয়াশীল, তাঁর সতর্কদৃষ্টি সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। যখন বিশ্ব জগৎ নিদ্রা যায়, তখনও তিনি জেগে থাকেন। তিনি অবিরত কাজ করছেন। জগতে যা কিছু পরিবর্তন ও বিকাশ দেখা যায়, সবই তাঁর কাজ। তৃতীয়ত আমাদের কাউকেও ঘৃণা করা উচিত নয়। এই জগৎ চিরকাল শুভাশুভের মিশ্রণ হয়েই থাকবে। আমাদের কর্তব্য-দুর্বলের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা এবং অনিষ্টকারীকেও ভালবাসা। এ জগৎ একটি বিরাট নৈতিক ব্যায়ামশালা-এখানে আমাদের সকলকেই অনুশীলন করতে হবে, যাতে দিন দিন আমরা আরও বেশী আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ করতে পারি। চতুর্থত আমাদের কোনপ্রকারের গোঁড়া হওয়া উচিত নয়, কারণ গোঁড়ামি প্রেমের বিপরীত। গোঁড়া ফস্ করে বলে বসে, ‘আমি পাপীকে ঘৃণা করি না, পাপকে ঘৃণা করি।’ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পাপ ও পাপীর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে, এমন মানুষ দেখবার জন্য আমি দূর-দূরান্তরে যেতেও প্রস্তুত। ঐরকম বলা খুব সহজ! যদি আমরা ভালভাবে দ্রব্য ও গুণের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি, তবে তো আমরা সিদ্ধ হয়ে যাই! ঐরকম করা বড় সহজ নয়। বরং যতই আমরা ধীরস্থির হব এবং আমাদের স্নায়ুসমূহও যতই শান্ত হবে, ততই আমরা আরো বেশি প্রেমসম্পন্ন হব এবং আরও ভালভাবে কাজ করতে সমর্থ হব।

