Chapter (অধ্যায়): মুক্তি পৃষ্ঠা ৯৭Page: 97 of 320
নিমিত্ত’ বলেন এবং ইওরোপীয় মনোবিজ্ঞানে যা স্থান কাল ও কারণ(Space, time,causation ) বলে পরিচিত। এই জগৎ সেই অনন্ত সত্তার এতটুকু অংশমাত্র, একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢালা, দেশ-কাল-নিমিত্তে গঠিত। ঐরূপে ছাঁচে ঢালা অস্তিত্ব-সমষ্টির নামই আমাদের জগৎ। অপরিহার্যভাবে এই সিদ্ধান্ত করতে হয় যে, নিয়ম কেবল এই কার্য-কারণ-নিয়ন্ত্রিত জগতের মধ্যেই সম্ভব, এর বাইরে কোন নিয়ম থাকতে পারে না। যখন আমরা এই জগতের কথা বলি, তখন আমরা বুঝি, অস্তিত্বের যে অংশটুকু আমাদের মনের দ্বারা সীমাবদ্ধ, যে ইন্দ্রিয়গোচর জগৎ আমরা অনুভব করি, স্পর্শ করি, দেখি, শুনি, চিন্তা করি এবং কল্পনা করি, সেইটুকুই কেবল নিয়মাধীন; কিন্তু এটার বাইরের সত্তা নিয়মের অধীন নয়, যেহেতু কার্য-কারণ-ভাব আমাদের মনোজগতের বাইরে আর যেতে পারে না। আমাদের ইন্দ্রিয়-মনের অতীত কোন বস্তুই এই কার্য-কারন-নিয়ম দ্বারা বদ্ধ নয়, কারণ ইন্দ্রিয়াতীত রাজ্যে বিভিন্ন বস্তুর ভাবানুষঙ্গ-সম্বন্ধ নেই, এবং ভাব-সম্বন্ধ ব্যাতীত কার্য-কারণ-সম্বন্ধও থাকতে পারে না। নাম-রূপের ছাঁচের মধ্যে পড়লেই সত্তা বা চৈতন্য কার্য-কারণ নিয়ম মানিয়ে চলেন এবং তখনই বলা হয় সেটা নিয়মের অধীন, যেহেতু কার্য-কারণ-সম্বন্ধই সকল নিয়মের মূল। এখন আমরা সহজেই বুঝতে পারব যে, স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু থাকতে পারে না; ঐ শব্দগুলি পরস্পরবিরুদ্ধ, কারণ ইচ্ছা জ্ঞানের অন্তর্গত এবং যা কিছু আমরা জানি সে-সবই আমাদের জগতের অন্তর্গত। আবার জগতের অন্তর্গত সব-কিছুই দেশ-কাল-নিমিত্তের ছাঁচে ঢালা। যা কিছু আমরা জানি বা যা কিছু জানা আমাদের পক্ষে সম্ভব, সবই কার্য-কারণের অধীন; এবং যা কিছু কার্য-কারণ-নিয়মের অধীন, তা কখনও স্বাধীন হতে পারে না। অন্যান্য বস্তু এটার উপর ক্রিয়া করে এবং এটাও আবার অপরের কারণ হয়, এইরকম চলেছে। যা আগে ‘ইচ্ছা’ ছিল না, কিন্তু ইচ্ছারূপে পরিণত হয়, যা এই দেশ-কাল-নিমিত্তের ছাঁচে পড়ে মানুষের ইচ্ছারূপে পরিণত হয়েছে, তা মুক্তস্বভাব; আর যখন এই ইচ্ছা কার্য-কারণ-চক্র থেকে বের হয়ে যাবে, তখন আবার স্বাধীন বা মুক্ত হবে। স্বাধীনতা বা মুক্তি থেকেই সেটা আসে, এই বন্ধনের ছাঁচে পড়ে এবং বের হয়ে আবার মুক্ত হয়।
প্রশ্ন উঠেছিল, জগৎ কোথা থেকে আসে, কোথায় অবস্থান করে এবং কিসেই বা লীন হয়? উত্তরও দেওয়া হয়েছে-মুক্তি থেকেই এটার উৎপত্তি, বন্ধনে এটার স্থিতি এবং অবশেষে মুক্তিতেই প্রত্যাবর্তন। সুতরাং যখন আমরা বলি, মানুষ সেই অনন্ত সত্তার প্রকাশ, তখন বুঝতে হবে সেই সত্তার অতি ক্ষুদ্র অংশ মানুষ। এই দেহ ও এই মন-যা আমরা দেখেছি, এগুলি সমগ্রের অংশমাত্র, সেই অনন্ত পুরুষের একটি বিন্দুমাত্র। সমস্ত ব্রহ্মান্ডই সেই অনন্ত পুরুষের একটি কণামাত্র। আর আমাদের সকল নিয়ম ও বন্ধন, আনন্দ ও বিষাদ, আমদের সুখ ও আশা-সবই এই ক্ষুদ্র জগতের ভেতরে। আমাদের উন্নতি ও অবনতি সবই এই ক্ষুদ্র জগতে সীমাবদ্ধ। অতএব

